www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

ব্রয়লার হাঁস পালনে স্বাবলম্বী জয়পুরহাটের মনিরা খাতুন


 মুনিরুজ্জামান    ২৪ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার, ৯:৫১   উদ্যোক্তা বিভাগ


কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ফেরাতে যুগে যুগে কৃষি ও খামার যতটা অবদান রেখেছে অন্য কোন খাতের অবদান এতোটা উজ্বল নয়। আজ আমরা আপনাদের জানাব এমন এক নারী উদ্যোক্তার কথা যিনি খামার করে সফলতা অর্জন করেছেন। হয়ে উঠেছেন এলাকার অন্য নারীদের অনুপ্রেরণা।

জয়পুরহাট জেলা পাঁচবিবি উপজেলার জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মনিরা খাতুন। স্বামী আব্দুর রাজ্জাক এক ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ক্লান্ত পরিশ্রমী এই দম্পতির জীবিকা কৃষি। কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির অভাবে সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফসল ফলন বেশি হলেও কোন কিছুতেই যেন ভাগ্য ফিরছেনা। সন্তানের লেখা পড়া সংসারের খরচ চালাটে প্রায় সময় অন্যের সাহায্য নিতে হতো। হাজার কষ্টের মাঝে অল্প অল্প করে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশনে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে অল্প অল্প করে টাকা জমাতো।

একদিন জাকস ফাউন্ডেশনের প্রাণী সম্পদ ইউনিটের আওতায় ব্রয়েলার বা বেইজিং জাতের হাঁস পালনের উপর প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। প্রশিক্ষণটি ছিল “ব্রয়লার বা বেইজিং জাতের হাঁস পালন করে নিরাপদ মাংস উৎপাদন”। প্রশিক্ষনের পর তার আগ্রহ দেখে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত অনুদান ভিত্তিক খাত থেকে সংস্থাটির প্রাণী-সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জহুর আলী বেইজিং হাঁসের খামার প্রতিস্থাপনে কারিগরি পরামর্শ সহ যাবতিয় সহযোগিতা করেন।

প্রথম দিকে মাত্র ৫০ টি হাঁস নিয়ে খামার শুরু করে মনিরা খাতুন। সঠিক পরিশ্রম আর নিয়মিত পরিচর্যায় মাত্র দু মাসে ২২ হাজার টাকা আয় করেন। অল্প দিনে স্বল্প পূজি বিনিয়োগে এত লাভ পেয়ে তিনি খামার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। জমানো টাকা খামারের টাকা এবং সংস্থা থেকে কিছু ঋণ নিয়ে ধীরে ধীরে ৪৫০ টি হাঁসের খামারে পরিনত করেন। মাংসের জন্য বেইজিং একটি উন্নত জাত হওয়া আশেপাশেও হাঁস পালনে চাহিদা বাড়ে। হাঁসের বাচ্চার চাহিদার তুলনায় সর্বরাহব কম হওয়ায় জাকস ফাউন্ডেশনের প্রণী-সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জহুর আলী পরামর্শ ও সহযোগিতায় মনিরা খাতুন ও আব্দুর রাজ্জাক নিজেস্ব খামারের ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য হ্যাচারি স্থাপন করে।

মনিরা খাতুন জানান “ব্রয়লার হাঁস আমাদের এলাকায় নতুন। আমি জানতাম না যে হাঁস এত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আগে হাঁস পালন করতাম মুরগির সাথে পালন করতাম। কিন্ত ট্রেনিং এ মাচা পদ্ধতিতে হাঁস পালনের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পানি ছাড়ায় এই হাঁস পালান করা যায়। তাই আমি বাড়ির আঙিনায় মাচা করে হাঁস পালন শুরুকরি। এখন ডিম উৎপাদন করছি তাই হাঁস পুকুরেও ছাড়িয়ে। তবে যে কেউ চাইলে পানি ছাড়া পালন করতে পারবেন। আরো জানানো হয় কি ভাবে হাঁস পালন করলে রোগ বালাই কম হয়। হাঁসের বাচ্চা প্রথমে আমরা নওগার সরকারি হাঁস প্রজনন খামার থেকে সংগ্রহ করতাম, কিন্তু চাহিদার তুলনায় বাচ্চা উৎপাদন কম হওয়ায় বাচ্চার অভাবে খামার বন্ধ রাখতে হতো। তাই আমরা নিজেরাই বাচ্চা উৎপাদন করছি। আমাদের গ্রাম ছাড়াও দুরদুরান্ত থেকে মানুষ এসে বাচ্চা নিয়ে যায়।”

জাকস ফাউন্ডেশনের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান “আমারা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের কাজ করছি। গ্রামীণ নারী সমাজের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ খামার প্রতিস্থাপনসহ প্রাণী স্বাস্থ সেবা প্রদান করে থাকি। মনিরা খাতুন সৎ এবং পরিশ্রমী নারী। তার আগ্রহ আর প্রচেষ্টায় তার আজকের অবস্থান। তাছাড়া ব্রয়লার হাঁস বা বেইজিং হাঁসের মাংস খেতে বেশ সুস্বাদু । সাধারণত দেশি হাঁসের মাংসে হাড়ের পরিমাণ বেশি থাকে বাচ্চারা খেতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে বোধ করেনা কিন্তু বেইজিং হাঁসে মাংসের পরিয়ামণ বেশি তাই যে কোন বয়সের মানুষ খেতে পছন্দ করে। আর মাংসের জন্য পালন করা হয় বলে একে ব্রয়লার হাঁস নামে ডাকা হয়। এর বৃদ্ধি খুব দ্রুত দেখতে সাদা হলেও এ হাঁসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা আশা করছি বেজিং জাতের হাঁস পালনে গ্রামীন নারীরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন।”