www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বন্দরে আমদানী জটিলতা

বেনাপোলে বিপাকে কৃষিজ পণ্য আমদানীকারকরা


 এগ্রিবার্তা ডেস্কঃ    ৭ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:১৬   পোল্ট্রি বিভাগ


করোনাভাইরাসের কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে দীর্ঘ ৪০ দিন দু’দেশের মধ্যে সকল প্রকার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে দু’দেশের কাস্টম, বন্দর ও ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বৈঠক করে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জরুরি কৃষিপণ্য, কাঁচামাল ও পঁচনশীল পণ্য রফতানির মধ্যে দিয়ে সীমিত আকারে দু’দেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য শুরু করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুরু হওয়ার দিন তিনেকের ভেতরেই তা আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খাদ্য, কৃষিজ, ঔষধ, ফিড এডিটিভস্, সার আমদানীকারকরা। বলছিলেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ জনাব শাহ্ আলম কবির।

শাহ্ আলম কবির বলেন, রবিবার বিকেলে হঠাৎ করে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার ফলে কার্যত দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের শত শত আমদানীকারকরা। তিনি বলেন ওপার থেকে আসার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় চার শতাধিক ট্রাক। তবে বেশী বিপাকে পড়েছেন খাদ্য, কৃষিজ, ঔষধ, ফিড এডিটিভস্ আমদানীকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিগমা বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী জনাব মো: আনোয়ার হোসেন বলেন গত ২৬ মার্চ থেকে তাদের পণ্যগুলো ট্রাকের উপর আটকা রয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ায় মালামালগুলো এভাবে পড়ে থাকলে পণ্যের গুণগতমান কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানিকারকরা বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনে চলেছে। এছাড়াও সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দেশের ফিডমিল গুলো মানসম্পন্ন ফিড প্রস্তুত করতে পারছেনা। যার প্রভাব পড়বে সমগ্র পোল্ট্রি শিল্পের উপর।

জনাব আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে নিয়মিতভাবে ১৫ জনের অধিক আমদানিকারক এনিম্যাল হেলথ্ ও ফিড এডিটিভস্ পণ্য আমদানী করে থাকেন। এ ছাড়াও দেশের বড় বড় ফিডমিল এসব পণ্য ছাড়াও ভুট্টা, সয়াবিন মিলসহ অন্যান্য কাঁচামাল সরাসরি আমদানি করে থাকে। আমদানী বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় সরকারও বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছেন প্রতিদিন যোগ করেন তিনি। কাজেই অতি দ্রুত জটিলতা নিরসনে তিনি দেশের পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এনিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব অফ বাংলাদেশ (AHCAB)-এর সেক্রেটারি জেনারেল ডা: মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি চলমান থাকলেও দেশের জরুরি সেবা গুলি চলমান রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক খাদ্য, ঔষধ, কৃষিজ ও প্রাণিজ উপকরণ আমদানিমুখী পণ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস ও পরিবহন এর নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা মোতাবেক বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য খালাস চলমান থাকলেও ভারতীয় অংশে পেট্রাপোল বন্দরে শুধুমাত্র পঁচনশীল জরুরী পণ্যসমূহ ছাড় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্বস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে (AHCAB)-এর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশে অংশ থেকে শুধুমাত্র পঁচনশীল ও জরুরি পণ্য সামগ্রী ছাড়করণে নির্দেশনা দেয়ার প্রেক্ষিতে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ অন্যান্য পণ্যসমূহ ছাড়ছেন না। এর ফলে প্রাণিজ খাতের পণ্যসমূহ আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এসব বিষয় অবহিত হওয়ার পরপরই এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আজ ৭ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ডা: মোঃ কামরুজ্জামান। এছাড়াও চিঠির অনুলিপি সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বেনাপোল স্থল বন্দর শুল্ক কর্তৃপক্ষের কমিশনার বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বন্দর দিয়ে প্রাণিজখাতের একাধিক আমদানীকারকদের সাথে আলালাকালে তারা বেশ দু:খের সাথে বলেন দেশে পোল্ট্রি শিল্পের স্বার্থ দেখভালের জন্য অনেক এসোসিয়েশন থাকলেও কার্যত আপদকালীন সময়ে তাদের ভূমিকা তেমন একটা চোখে পড়েনা। ২/১ টি এসোসিয়েশন কাজ করতে চাইলেও অনেক সময় তারা বাঁধার সস্মুখীন হয় যা এ সেক্টরের জন্য হতাশার। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসোসিয়েশনগুলি একসাথে হয়ে সেক্টরের জন্য আরও জোরালো ভূমিকা রাখার দাবি জানান সংশ্লিস্ট ভুক্তভোগীরা।




  এ বিভাগের অন্যান্য