www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

করোনায় ডিম, দুধ, ব্রয়লার মাংস ও মাছের উপকারিতা বনাম অপপ্রচার


 এগ্রিবার্তা ডেস্কঃ    ১৯ মে ২০২০, মঙ্গলবার, ২:৫৭   পোল্ট্রি বিভাগ


সাম্প্রতিক সময়ে ব্রয়লার মাংস, ডিম, মাছ সাধারন ভোক্তার আস্থা হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু এই করোনাকালীন সময়ে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে প্রাণিজ প্রোটিন তথা ডিম, দুধ, ব্রয়লার মাংস ও মাছ। আমাদের মাঝে প্রচলিত কিছু অপপ্রচার ও এর বিপরীতে সঠিক তথ্য পাঠকের জন্য তুলে ধরাই আজকের লেখার মূল উদ্দেশ্য।

১. ব্রয়লারের মাংস মানুষে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেসিস্টেন্স (এএমআর) হবার অন্যতম কারন, ব্রয়লারে উচ্চ মাত্রায় এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়।

কথাটা একদম ভুল। এএমআর যে শুধু প্রাণীতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারনে হয় তা নয়। অনেকগুলো বিষয় এক্ষেত্রে কাজ করে। আমারা নিজেরা প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক খাচ্ছি , খেলেও এন্টিবায়োটিকের পুরো ডোজ শেষ করি না, আবার ব্রোড স্পেকট্রাম খাচ্ছি উচ্চ ডোজে এবং আরও কিছু কারনে। এখন মাঠ পর্যায়ে মুরগিতে মানুষের এন্টিবায়োটিক খুবই কম ব্যবহৃত হয় (হলেও শুধুমাত্র অসুস্থ হলে) কিন্তু বর্তমানে ফিডমিলে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুন্যের কোঠায়। বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ইতিমধ্যে নানা ধরনের মানুষে এএমআর'র জন্য দায়ী ঔষধ নিষিদ্ধ করেছেন এবং এএমআর এলায়েন্সের আয়তায় ভেটেরিনারিয়ান ও চিকিৎসক কাজ করছে। আর হাইকোর্ট থেকে আইন হয়েছে রেজিস্ট্রার ভেটেরিনারিয়ান ছাড়া ব্রয়লার মুরগিতে এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবেনা। ব্রয়লার পালনে এখন আমাদের দেশে অনেক নাচারাল এডিটিভস্ ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন অনেক কোম্পানি প্রোসেসিং ব্রয়লার এ এসেছে তাই নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন। আর বাজারের জ্বীবন্ত ব্রয়লারও নিরাপদ যদি আপনি একটু ভাল ভাবে রান্না করেন। আর একটু বেশি ওজনের ব্রয়লার কেনেন সেটাই বেশি ভাল হবে।

২. ব্রয়লারকে ক্রোমিয়াম যুক্ত টান্যারী বর্জ দিয়ে তৈরি করা ফিড খাওয়ানো হয় তাই ক্যানসার হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক কিভাবে, কতগুলো মুরগি নিয়ে, কোন ফিড খাউয়াছিলেন তা যমুনা টেলিভিশন জাতির কাছে পরিষ্কার করেছে। কারন ট্যানারির বর্জ্য এখন কোনভাবেই ব্রয়লারের ফিডে ব্যবহার হয়না। চ্যালেন্জ নিয়ে বলছি। কোন প্রকার শুকরের চর্বি/মাংস মুরগি, মাছ ও গরুর খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয়না। প্রাণিসম্পদ বিভাগ যথেষ্ট সজাগ। ডিএলএস এর লাইসেন্স বিহীন পশুখাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৩. কিছু নামসর্বস্ব অনলাইন নিউজপেপার ও ইউটিউব চ্যানেল নিজের প্রত্রিকার/চ্যানেলের বেশি শেয়ারের আশায় এই ধরনের ফেইক নিউজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায়।

আমরা বুদ্ধি বিচার বিশ্লেষন করে তবেই কোন কিছু ফেসবুকে শেয়ার দিলে আজ আপনাদের কাছে ব্রয়লারের মাংস হত সবচেয়ে সস্তা ও সবচেয়ে নিরাপদ প্রোটিনের উৎস।

৪. প্লাস্টিক ডিমের গুজব।

এইটা নিয়ে কিছু বলতে আর চাইনা কারন ইতিমধ্যেই আমরা চ্যালেন্জ জানিয়েছিলাম কেউ প্লাস্টিক ডিম দেখাতে পারেননি। কষ্ট লাগে মাঝে মাঝে ঔ পুরানো নিউজগুলো কিছু মানুষ ফেসবুকে এখনও শেয়ার করে। আর এখন ডিম ভোক্তার আস্থার যায়গা, মাত্র ১৫ টাকায় পেটভরে ডিম ভাজি। আর এখন অনেকেই অলরেডি ডিম দিয়েই কিটো ডাইট করছেন ও এর সুফল পাচ্ছেন।

৫. ডিমের কুসুম হার্ট রোগীর জন্য নিরাপদ নয়। ডিম উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।

অনেকেই আছেন যারা ডাক্তার অথবা নিজেরা উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন আমি বলতে চাই ডিমের কুসুমে ভাল কোলেস্টেরল (এইচডিএল) আছে যা আমাদের জন্য অনেক উপকারি এবং প্রধানত বাচ্চাদের ব্রেইন গঠনে সহায়তা করে। আপনারা গুগলের সহায়তা নিন আর যাচাই করুন ডিম খাবেন কি খাবেন না?

৬. দুধে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ

দুধে এন্টিবায়োটিক রেসিডিউ পেয়েছেন বলে ঘোষনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ফার্মেসি শিক্ষকের । এই কারনে আমাদের ডেইরি শিল্প ধ্বংসের পথে ছিল। হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছিলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক নির্দেশে ঐযাত্রাই বেঁচে গেছি।

৭. তেলাপিয়া খেলে ক্যানসার ছড়ায়।

একদম মিথ্যা। তেলাপিয়া, পাংগাস এগুলোতে ওমেগা এসিড পাওয়া যায় যা বাচ্চাদের ব্রেইন গঠনে যথেষ্ট উপকারি।

৮. ব্রয়লারের মাংস খেলে করোনা ভাইরাস ছড়ায়।

একদম মিথ্যা গুজব। দেখে নিতে পারেন এই লিংক থেকে

আমি সবাইকে শেষে একটা কথাই বলবো নিশ্চিন্তে ব্রয়লার মাংস, ডিম, দুধ আর মাছ খান আর রোগ প্রতিরোধ বাড়ান। আপনারা এর মধ্যে জেনে গেছেন প্রতিদিন ডিম খাবার সুফলতা করোনা আক্রান্ত হলে। এই প্রোটিনগুলো আপনার রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে সহায়তা করবে। যত পারেন সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোবেন। বাড়িতে থাকুন, নিজে নিরাপদ থাকুন ও অপরকে বাঁচতে দিন। ইনশাল্লাহ্ আমরা করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করতে পারবো।

লেখকঃ
ডাঃ মোঃ তুষার চৌধুরী
ভেটেরিনারিয়ান
পরিচালক
ডক্টরস এগ্রোভেট লিমিটেড




  এ বিভাগের অন্যান্য