www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

লালমনিরহাটে গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ, বাজারে ওষুধ সংকট


 এগ্রিবার্তা ডেস্কঃ    ২৫ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:৫০   ডেইরী বিভাগ


লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় গবাদিপশুর মাঝে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাস দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেটেরিনারি ওষুধ বিক্রয়ের ফার্মেসি সমূহে গবাদি পশুর ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক দামে ওষুধ বিক্রি করছে।

জানাগেছে, ভেটেরিনারি ওষুধ বিক্রয়ের ফার্মেসি সমূহে জ্বর, শরীর ব্যাথাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক, কিটোপ্রোফেন, ক্লোরাফেনিরামিন মেলিয়েট (এ্যান্টিহিস্টামিন), প্যারাসিটামল জাতীয়সহ বিভিন্ন প্র্রকার ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শপত্র নিয়ে ওষুধ বিক্রয়ের ফার্মেসি সমূহে ওষুধ কেনার জন্য ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পাচ্ছেন না তারা । এর ফলে ছোট-বড় খামারি ও কৃষকেরা ভোগান্তিতে পরেছে।

সরেজমিনে একাধিক ওষুধ বিক্রয়ের ফার্মেসী ঘুরে জানা গেছে, প্রতি চার পাঁচ দিন পর ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির নিকট প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা উল্লেখ করে ওষুধ সরবরাহের অর্ডার দেওয়া হয়। প্রায় ভালো ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের ওষুধ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় গত দশ (১০) দিন থেকে সরবরাহ করছে অনেক কম। এজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সমূহ বাজারে সংকট বলে বিক্রেতারা জানিয়েছে। বিশেষ করে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় এ বছর এন্টিবায়োটিক, কিটোপ্রোফেন, ক্লোরাফেনিরামিন মেলিয়েট (এ্যান্টিহিস্টামিন), প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জনা গেছে , উপজেলায় মোট গরু রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার। এর মধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা প্রায় ৪০০ টি। এ বিষয়ে পল্লিচিকিৎসক মো. একেএম আশরাফুল আমিন মিলন বলেন, গত পাঁচ দিনে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২০০টি গরুর চিকিৎসা করেছি। প্রায় দশ দিন যাবত বাজারে গবাদি পশুর বিভিন্ন প্রকার ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযেগ কাজে লাগিয়ে কিছু মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী ওষুধ থাকার পরও দিচ্ছে না। তাঁরা চড়া দামে ওষুধ বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, বাজারে গবাদি পশুর ওষুধ সংকটের কথা শুনেছি। লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাস নামে পরিচিত। মশা, মাছি যাতে গরুকে না কামড়ায় সে জন্য গরুকে মশারিতে রাখতে হবে। আমরা এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে খামারি ও প্রান্তিক কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনি আরও জানান, এ রোগে প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গরুর জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ২টি, খাবার সোডা ৫০ গ্রাম, নিম পাতা বাটা ২৫ গ্রাম, লবণ ২৫ গ্রাম, গুড় ৫০ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে একত্রে মিশ্রিত করে সকাল বিকাল ৭ দিন সেবন করালে লাম্পি স্কিন ডিজিজ উপশম হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম লাম্পি স্কিন ডিজিজ দেখা যায়, যা দেশের প্রায় ৪৫ টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কমপক্ষে ৩৫% গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।




  এ বিভাগের অন্যান্য