www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

সম্ভাবনার প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন সময়ের দাবি


 তোফায়েল আহমেদ    ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, ১১:০৪   সম্পাদকীয় বিভাগ


কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাত প্রাণিসম্পদ। সুস্থ সবল ও বিকশিত জাতি গঠনে প্রানীজ আমিষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশের মানুষের প্রানীজ আমিষের মোট চাহিদার ৮০ভাগ পূরণ করে প্রাণিসম্পদ খাত। বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরনের পাশাপাশি নীরবে নিভৃতে অবদান রেখে চলেছে দেশের অর্থনীতির ভাগ্য-উন্নয়ন। কিন্তু, বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় প্রাণিসম্পদ খাত বারংবার মুখ থুবড়ে পড়েছে পুরনো আমলের জনবল কাঠামো ও দিক নির্দেশনার অভাবে।

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ প্রত্যক্ষ ও ৫০ ভাগ মানুষ পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদের সাথে জড়িত। দেশের জিডিপি'তে অবদান ১.৪৭ ভাগ আর বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৩.৪৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হয় অপার সম্ভাবনাময় এ খাত হতে। আশির দশক থেকে গুটি গুটি পায়ে বিস্তার লাভ করে বর্তমানে প্রায় ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকার শিল্পে রূপ নিয়েছে পোলট্রি শিল্প, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় অর্ধ-কোটি মানুষ। প্রতিবছর পবিত্র ইদ-উল-আযহা উপলক্ষে ৫০ লক্ষাধিক পশু হৃষ্টপুষ্ট করে প্রস্তুত করা হয়, যেখানে জড়িয়ে থাকে হাজারো মানুষের কোটি কোটি টাকার স্বপ্ন। তাছাড়াও রয়েছে টার্কি, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের খামার; যা মানুষের আমিষের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি জিডিপি'তে অনন্য অবদান রেখে চলেছে। দেশের আরেক রমরমা ব্যবসা খাবার হোটেলও রেস্টুরেন্ট এর মূল কাঠামো দাড়িয়ে আছে প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে।

সামান্য পরিসংখ্যানের হিসাবেই বুঝা যাচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার অন্যতম মূল উপজীব্য হিসেবে কাজ করে চলেছে প্রাণিসম্পদ খাত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দুধ, ডিম, মাংসের বাজার মাঝেমধ্যেই অস্থির হয়ে উঠে। করোনাকালীন ক্রান্তিলগ্নে সঠিক দিক নির্দেশনা, উন্নত বিপণন ব্যবস্থা তৈরি, জনবল সংকট ও বাজার তদারকির অভাবে দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি। ৫.৫০ টাকা উৎপাদন খরচের ডিম বিক্রি হয়েছে ৩-৪ টাকায়, ৭০-৮০ টাকা লিটার দুধ ৩০-৪০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। বিপিআইসিসি'র দেওয়া তথ্য মতে, লকডাউনের শুরু থেকে শুধু ২১ দিনেই পোল্ট্রি শিল্পে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। নষ্ট করতে হয়েছে হাজার হাজার এক দিন বয়সের বাচ্চা মুরগির বাচ্চা। সাথে যুক্ত হয়েছে লাম্ফি স্কিন ডিজিস, জনবল সংকট হওয়ায় খামারিরা কোয়াকদের দ্বারস্থ হয়ে হাজার হাজার টাকা খোয়াচ্ছে।

অপরদিকে, প্রায় ৮কোটি মানুষ ও ১১ কোটি গবাদিপশু থাকাকালীন তৈরি হওয়া অর্গানোগ্রাম চার দশক পর বর্তমান ১৭ কোটি মানুষ আর ৪০ কোটি গবাদিপশুর কাছে অসহায়। বাকৃবি থেকে পাস করে যখন ৫০ জন ভেট ডাক্তার বের হতো তখনকার জনবল কাঠামো বর্তমান ১২ টি বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের প্রায় ১০০০ ছাত্রছাত্রীর কাছে অনেকটা নিঃস্ব স্বপ্নের মতো।

বিপুল সম্ভাবনার প্রাণিসম্পদ খাত'কে অতিদ্রুত আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হোক। সঠিক দিক নির্দেশনা, নেতৃত্ব, উন্নত বিপণন ব্যবস্থা তৈরি, বাজার তদারকি, ভেট ডাক্তারদের দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, খামারিদের দ্বারে দ্বারে চিকিৎসা সেবা পৌছানো নিশ্চিত করা, পশুখাদ্যের মূল্য নির্ধারণ, সংকটের মুহূর্তে প্রনোদনা প্রদান করতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ এ খাত হতে পারে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার অন্যতম ট্রাম্প কার্ড।

তোফায়েল আহমেদ
তৃতীয় বর্ষ
প্রানীসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়




  এ বিভাগের অন্যান্য