www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

একনেক সভায় তুলা গবেষণায় ৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন


 এগ্রিবার্তা ডেস্কঃ    ২৮ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:৫৪   কৃষি অর্থনীতি  বিভাগ


উচ্চ ফলনশীল, জলবায়ু অভিযোজনশীল, স্বল্প মেয়াদি, খরা-লবণাক্ততা সহনশীল ও মানসম্পন্ন আঁশ উৎপাদনে উন্নত জাতের তুলার উদ্ভাবন এবং এ সংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যক্রমের জন্য ৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ‘তুলার গবেষণা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ নামের প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো- চার হাজার ৩০০টি অনফার্ম ট্রায়াল/আদর্শ ট্রায়াল করা। ৫ থেকে ৭ টন হাইব্রিড তুলা বীজ উৎপাদন করা। ৩০০ বৈজ্ঞানিক সহকারী এবং সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত ১৮০০ জনবল নিয়োগ করা। ১২০০ আদর্শ তুলাচাষি, ১৫০০০ তালিকাভুক্ত চাষির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৩০০ কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ এবং ২ ব্যাচ এক্সপোজার ভিজিট করা। ১০ ব্যাচ সেমিনার/রিসার্চ রিভিউ ওয়ার্কশপ করা। ১৫০ ব্যাচ মাঠদিবস ও ৫০ ব্যাচ চাষি-র্যালির আয়োজন করা।

ল্যাবরেটরি বিল্ডিং ও অফিস বিল্ডিংয়ের উপরের দিকে সম্প্রসারণ করা। একটি গুদাম নির্মাণ, একটি নেট হাউজ তৈরি করা। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, সেচ ও ড্রেনেজ সুবিধা তৈরি ও ভূমি উন্নয়ন করা। চারটি ট্রাক্টর, সাতটি পাওয়ার টিলার ও ২৩৩টি অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয় ইত্যাদি কাজ করা।

তুলার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহনশীল জাতের উন্নয়ন, আঁশের গুণগত মানের উন্নতি সাধন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খায় এমন লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর, তুলার (G. hirsutum, G. arboreum, G. herbaceum, G. barbadense etc.) জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, উচ্চফলনশীল, স্বল্প মেয়াদি, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল এবং মানসম্পন্ন আঁশ উৎপাদনকারী জাতের উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনশীল এলাকায় তুলাচাষ সম্প্রসারণের জন্য জলবায়ু অভিযোজনশীল তুলার জাত এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

প্রকল্প বাস্তবায়নের এলাকাগুলো হলো- খুলনা বিভাগের খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, ফুলতলা; সাতক্ষীরার কলারোয়া, তালা; যশোরের চৌগাছা, ঝিকরগাছা, শার্শা, মণিরামপুর, কেশবপুর; ঝিনাইদহের সদর, কালীগঞ্জ, শৈলকুপা, মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, হরিণাকুন্ড; কুষ্টিয়ার সদর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, মিরপুর; মেহেপুরের গাংনী, মুজিবনগর; মাগুরার মোহাম্মদপুর, শ্রীপুর; চুয়াডাঙ্গার সদর, জীবননগর, দামুড়হুদা ও আলমডাঙ্গা।

বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ, ঝালকাঠি, রাজাপুর; পটুয়াখালীর দশমিনা, কলাপাড়া; বরগুনা জেলার বরগুনা, আমতলী, পাথরঘাটা। রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী সদর, বাঘা, গোদাগাড়ী, চারঘাট, পুঠিয়া, তানোর; নাটোরের লালপুর, বড়াইগ্রাম, বাঘাতিপাড়া; চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, গোমস্তাপুর, নাচোল; নওগাঁর পোরশা, নিয়ামতপুর, মান্দা, সাপাহার, ধামুইরহাট; বগুড়ার সদর, সোনাতলা, গাবতলী, ধুনট, শিবগঞ্জ, সারিয়াকান্দি; সিরাজগঞ্জের কামারখান্দ, রায়গঞ্জ, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর; পাবনার আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী। রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর; রংপুরের সদর, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ; লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ; কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী; ঠাকুরগাঁওয়ের সদর, বালিয়াডাঙ্গী, রাণিশংকৈল, পীরগঞ্জ; দিনাজপুরের সদর, ফুলবাড়ী, বীরগঞ্জ, বিরামপুর; পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া, বোদা।

ঢাকা বিভাগের ঢাকা মেট্রোপলিটন, ধামরাই; গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী; ফরিদপুরের মধুখালী; রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি, পাংশা; টাঙ্গাইলের নাগরপুর, মির্জাপুর, মধুপুর, সখিপুর, ঘাটাইল, ধনবাড়ী; কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী; মানিকগঞ্জের সিংগাইর, সাটুরিয়া; গাজীপুরের শ্রীপুর, কালিয়াকৈর; নরসিংদীর শিবপুর; ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়ীয়া, ভালুকা, গফরগাঁও; শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবর্দী, নকলা; জামালপুরের সদর, ইসলামপুর। চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামাটি সদর, কাউখালি, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর, রাজস্থলি, বরকল, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি; খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, দিঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, মানিকছড়ি; বান্দরবানের সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানচি।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ ছিল, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উচ্চ ফলনশীল, জলবায়ু অভিযোজনশীল, স্বল্প মেয়াদি, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল এবং মানসম্পন্ন আঁশ উৎপাদনকারী জাতের উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পাদনে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আমদানি হ্রাসের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এছাড়া কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনেও সহায়ক হবে।




  এ বিভাগের অন্যান্য