www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি

খাতুনগঞ্জে জেলা প্রশাসনের অভিযান


 এগ্রিবার্তা ডেস্কঃ    ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার, ১০:১৩   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও অস্থির পেঁয়াজের বাজার। দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কয়েক দিন ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। দুদিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। পেঁয়াজের এই পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে খাতুনগঞ্জে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ বাজারে অভিযান চালিয়ে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজির অভিযোগে ১০ আড়তদারকে জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার ও উমর ফারুক।

দণ্ডপ্রাপ্ত আড়তদার ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেসার্স বরকত ভাণ্ডার ১০ হাজার টাকা, মেসার্স গোপাল বাণিজ্য ভাণ্ডার ১০ হাজার, মেসার্স হাজী মহিউদ্দিন সওদাগর ১০ হাজার, মেসার্স সেকান্দার অ্যান্ড সন্স ১০ হাজার, মোহাম্মাদীয়া বাণিজ্যালয় ১০ হাজার, মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন ১০ হাজার, গ্রামীণ বাণিজ্যালয় ৫ হাজার, আরাফাত ট্রেডার্স ৫ হাজার, মেসার্স বাগদারিক করপোরেশন ৫ হাজার ও শাহাদাত ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকা।

গত বছর ঠিক এই সময়েই ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে দেশের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে তখন লাগামহীনভাবে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। কেজি প্রতি বেড়ে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। পরে কয়েক মাস ধরে দাম স্থিতিশীল থাকলেও আবার অস্থির হয়ে উঠতে শুরু করেছে পেঁয়াজের বাজার। এর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে আগের সেই সিন্ডিকেট।

এরই মধ্যে গত ১৫ দিনে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বেড়ে এখন হয়েছে দ্বিগুণ। ১৮ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৫ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর দাম বেড়েছিল ভারতের রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে, এবার বাড়ছে সে দেশে বৃষ্টির অজুহাতে। এ কারণ দেখিয়ে ইতোমধ্যে রফতানি কমিয়ে দেয়ায় দেশে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ২০ টাকার মতো দাম বেড়েছে। খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়তে সরেজমিনে দেখা যায়, আড়তদাররা ব্যবসায়িক কাগজপত্র নিজেদের কাছে না রেখে আমদানিকারকের ফোন কলে দাম নির্ধারণ করে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। ফলে কেজিপ্রতি প্রায় ১৫ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আড়ত অনুযায়ী পেঁয়াজের দামে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হলেও প্রত্যেকেই এক বাক্যে দাবি করেন, আমদানিকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা দাম নির্ধারণ করেন এবং কমিশনে ব্যবসা করেন। ফলে দামের বিষয়ে তাদের নির্দিষ্টতা নেই।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার বলেন, ‘হঠাৎ করে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। ফলে দুদিক থেকে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে যাতে পেঁয়াজের দাম বেশি না নিতে পারে এ জন্য আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করব।’




  এ বিভাগের অন্যান্য