www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

এনএসটি ভাইভা নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা


 বশেমুরকৃবি প্রতিনিধিঃ    ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার, ১০:৫৪   ক্যাম্পাস বিভাগ


বাংলাদেশ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রতি বছর দেশের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের (বাছাইকৃত) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ফেলোশিপ (এনএসটি) প্রদান করে থাকে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে এনএসটি ফেলোশিপে প্রাথমিকভাবে ভাইভার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ১৮২১ জন শিক্ষার্থী ও গবেষক।

সম্প্রতি প্রকাশিত ঐ তালিকায় দেখা যায় ১৮০১ জন মাস্টার্সের এবং ২০ জন পিএইচডি গবেষক নির্বাচিত হয়েছেন। এই তালিকা ধরে পর্যায়ক্রমে ভাইভার আয়োজন করবে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ভৌতবিজ্ঞান ও নবায়ন গ্রুপের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে, খাদ্য ও বিজ্ঞান গ্রুপের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে এবং জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান গ্রুপের ভাইভা DRICM ভবন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR) এ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে বাছাইকৃত গবেষকদের দেয়া হবে সরকারী অনুদান (এনএসটি)।

জানা যায়, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম গ্রুপের ভাইভা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বাড়িতে অবস্থান করছেন। অনেকের বাড়ি দূরবর্তী হওয়ায় ভাইভায় অংশগ্রহন করা নিয়ে বিপাকে আছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বশেমুরকৃবির এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি বর্তমানে বগুড়া নিজ বাড়িতে আছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করাতে তাকে ক্যাম্পাসে যেতে হবে। সেখান থেকে ফিরতে হবে ঢাকায়। তার ভাইভা সকালের শিফটে থাকায় একদিন আগে এসেই কাগজপত্র ঠিক করে নিতে হবে। ঢাকায় কোথায় থাকবে জানতে চাইলে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায় থাকবে বলে জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকার বিষয়ে স্যারদের সাথে কথা বললে তাঁরা সরাসরি না করে দেন। এ ব্যাপারে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল (বশেমুরকৃবি) প্রভোস্ট ফারহানা হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থানের কোন সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের নিজেদের মত সবকিছু ব্যবস্থা করার কথা তিনি উল্লেখ করেন। শহীদ তাজউদ্দিন আমহদ হল (বশেমুরকৃবি) প্রভোস্ট ড. ইমরুল কায়েসকে ফোন দিলে তিনি ধরেন নি।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের (সিকৃবি) অপর এক শিক্ষার্থীর বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা যাওয়ায় পরিবারে ছোট ভাই ছাড়া পুরুষ অভিভাবক নেই। ফলে তাকে একাই সিলেটে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (মূল সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য) নিয়ে ঢাকায় ফিরতে হবে। ঢাকায় কোন আত্মীয় নেই তার। ২৪ তারিখে তার ভাইভা নেয়ার কথা। সে আরও জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে কোন বান্ধবীর বাসায় থাকতে চাওয়াটাও বেশ বিব্রতকর। একজন মেয়ে হয়ে এতটা পথ একাকী ভ্রমণ করা তার জন্য বেশ কষ্টের।

আরও অনেক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে একই পরিস্থিতি জানা যায়। তবে অনেকেই ঢাকার আশে পাশে অবস্থান করায় সে চিন্তা নেই। ছেলেদের কারও কারও বন্ধু বা আত্মীয় ঢাকায় থাকার সুবাদে তারাও অনেকটা স্বস্তিতে আছে। সিকৃবির একজন শিক্ষার্থী জানায় তার এক বন্ধু শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। হলে থাকার কিছুটা সুযোগ থাকায় সে এখানে থেকে ভাইভার জন্য সহজেই যেতে পারবে। অনলাইনে ভাইভা নেয়া বা বিকল্প কোন উপায় থাকলে সে ঢাকায় আসবে না বলেও জানায়।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন করোনাকালীন পরিস্থিতিতে ২০২০-২১ অর্থ বছরে এনএসটি ফেলোশিপের প্রাথমিক ভাইভা অনলাইন কোন প্লাটফর্মে নেওয়া হলে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন কমবে ঠিক তেমনি কমবে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ।




  এ বিভাগের অন্যান্য