www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

কৃষি এবং করোনা পরবর্তী কৃষি নির্ভর বাংলাদেশ কেমন হবে


 শাহনূর ইসলাম রাফি,সিকৃবি প্রতিনিধিঃ    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার, ১০:৩৫   কৃষি ব্যক্তিত্ব বিভাগ


একটি দেশের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, তার মধ্যে অন্যতম হলো কৃষি। আবহমান কাল থেকেই কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কৃষি কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। জ্ঞান বিজ্ঞানের নানাবিধ কলা কৌশল এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতা দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে আর্শীবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিলেটে কৃষি ক্ষেত্রে এই অভাবনীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বৃহত্তর সিলেটের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের পর থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সময়োপযোগী নিত্য নতুন গবেষণা মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত তৈরী, মাছ চাষের সঠিক পদ্ধতি, সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা।

দেশে কৃষি ক্ষেত্রে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন কিভাবে এসেছে তা জানতে এগ্রিবার্তার সাথে একান্ত আলোচনায় কথা বলেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও মাৎস্যচাষ বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ শাহাবুদ্দিন। ড. শাহাবুদ্দিন বলেন "কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল যে মানুষটির হাত ধরে, তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আগে যে কৃষিবিদদের অবহেলার চোখে দেখা হতো, বঙ্গবন্ধু সেই কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেয়ার পাশাপাশি কৃষি সেক্টরকে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যার ফলে মেধাবীরা ধীরে ধীরে কৃষিতে আগ্রহী হয়ে উঠে এবং উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের পথচলা শুরু হয়। সেই সাথে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ, কৃষি ভর্তুকি, কৃষি ঋণ বিতরন, জমির খাজনা মওকুফ সহ কৃষি বান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচী কৃষি ক্ষেত্রে অভাবনীয় পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল।

বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদদের ভালবাসতেন, তাদেরকে সম্মানিত করেছে, তাঁর ভালবাসার ব্যক্তিরা দেশকে কতটুকু সেবা দিতে পেরেছে এই প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহাবুদ্দিন বলেন " দেশের কৃষিবিদরা দেশের জন্য অনেক কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। দেশে ক্রমবর্ধমান মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে কৃষিবিদেরা সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন।

করোনার এই পরিস্থিতিতে কৃষি ক্ষেত্রে কতটুকু প্রভাব পড়েছে এই প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহাবুদ্দিন বলেন "আসলে করোনা আমাদের জন্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই নিয়ে এসেছে। করোনার কারণে দীর্ঘবছর হুমকির মুখে থাকা পরিবেশ কিছুটা তার স্বকীয়তা ফিরে পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাশয়ে জীব বৈচিত্রতা ফিরে এসেছে। প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন অতীতের তুলনায় বহুলাংশে বেড়েছে। আর নেতিবাচক দিকের কথা বললে লক ডাউনের জন্য চাষী ভাইয়েরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যাতায়ত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে চাষীরা তাদের ফসলের উপযুক্ত দাম পাচ্ছে না।

করোনা পরবর্তী কৃষি নির্ভর বাংলাদেশ কি তার স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারবে এই প্রশ্নের জবাবে ড. শাহাবুদ্দিন বলেন " এ বিষয়ে আমি আশাবাদী, বাংলাদেশ তার এই অবস্থান ধরে রাখবে এবং আরও ভাল অবস্থানে পৌছাবে। এজন্য প্রয়োজন কৃষির উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার ধারা অব্যহত রাখা এবং দেশ বিদেশের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা। এভাবেই কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিন বিশ্ববাসীর কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বলে মনে করেন এই কৃষিবিজ্ঞানী।




  এ বিভাগের অন্যান্য