www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

বাকৃবিতে অনলাইন ক্লাস চালুতে পদক্ষেপ নেই, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ


 বাকৃবি প্রতিনিধিঃ    ৫ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ১১:০০   ক্যাম্পাস বিভাগ


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিক ভার্চুয়াল সভা ও বারবার আশ্বাসের পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। করোনাকালে দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির থাকায় সেশনজটে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সেচ্ছাচারী ভূমিকায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সারাদেশে করোনা সংক্রমণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে দেশের প্রায় সকল সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ শিক্ষা কার্যক্রমে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনলাইনে পাঠদান কর্মসূচি চালু করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সাত মাসেও ¯œাতক ও মাস্টার্স লেভেলে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে শিক্ষকদের অনাগ্রহকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনলাইন ক্লাস শুরু করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রশাসনের পক্ষ হতে দ্রুত অনলাইন ক্লাস চালুর আশ্বাস দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মাস্টার্স লেভেলের একটি সেমিস্টারে অনলাইন ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে উপস্থিতি এবং অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ¯œাতক লেভেলে ক্লাস চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হলেও কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

এ বিষয়ে কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব শোভন বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রায় সব জায়গায় অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদান চালু রয়েছে। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এই দীর্ঘ সময়েও অনলাইন শুরু করতে পারেনি। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনলাইন ক্লাসের কোনো বিকল্প দেখছি না।

কৃষি অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী বায়েজিদ বাপ্পী বলেন, করোনা পরিস্থিতি যে খুব দ্রুত শেষ হবে না, সেটা আমরা সবাই অবগত। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস চালু না করে কেবল কালক্ষেপন করে যাচ্ছে। আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি হয়তো দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদ ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে মিটিংয়ের মিথ্যা আশ্বাসে আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। ৪০ দিনের রিপিট পরীক্ষাগুলোরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও মিলছে না কোনো সদুত্তর। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইন ক্লাস ও রিপিট পরীক্ষাগুলো সুনিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে ডিন কাউন্সিল থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। আগামি সপ্তাহে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আশা করি শীঘ্রই অনলাইন ক্লাস চালু হবে।




  এ বিভাগের অন্যান্য