www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

ডিম খান প্রতিদিন, ডিমের গুন অপরিসীম


 তাজকিয়া আকবর ঋতু    ৭ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ১১:৩০   পোল্ট্রি বিভাগ


স্বল্পমূল্য, সহজলভ্য ও খুব সহজে খাদ্য উপযোগী করে খাওয়ার জন্য ডিমের বিকল্প কিছু আছে বলে জানা নেই। অথচ এই ডিমের মধ্যে পানি, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন-A, D, B6, B12, ওমেগা-3(ভিটামিন-E), ফলিক এসিড (ফলেট), ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, খনিজ পদার্থ সহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই কম বেশি পাওয়া যায় একমাত্র ভিটামিন "C"ছাড়া। কোলিন নামক এসেনশিয়াল নিউট্রিয়েন্ট যা সহজলভ্য খাদ্যের মধ্যে ডিমেই বেশি পাওয়া যায়।

একটি ডিমের পুষ্টিমানঃ-
খাদ্যশক্তি ১৮১ কিলোক্যালরি, আমিষ ১৩.৫ গ্রাম, চর্বি ১৩.৭ গ্রাম, শর্করা ০.৮ গ্রাম ক্যালসিয়াম ৭০ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩ গ্রাম, পানি ৩৫ গ্রাম, কোলেস্টেরল ২২৫ গ্রাম, অ্যালবুমিন ৩৪-৩৫ গ্রাম যা সিমের মোট ওজনের শতকরা ৫৭ ভাগ।

প্রতিদিন কেনো ডিম খাবেন?

  • প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১/২ টা ডিম খেলে ছোটবড় সব রোগই পালাতে শুরু করে।
  • ডিমে থাকা ভিটামিন-A চুলের গোড়ার পুষ্টির ঘাটতি দুর করে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়।
  • ভিটামিন-B কমপ্লেক্স স্কিন ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • ভিটামিন-D হাড় ও দাঁত মজবুত করে, পেশির ব্যাথা কমায়, অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করে। হজম ক্ষমতা এবং হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
  • ভিটামিন-E কোষে এবং ত্বকে উৎপন্ন ফ্রি র‍্যাডিকেল নষ্ট করে দেয় এবং স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। প্রতি সপ্তাহে ৬টি করে ডিম খেলে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৪০% কমে যায়।
  • কুসুমে উপস্থিত ভিটামিন-K রক্তের বিভিন্ন কাজে এবং প্রজনন অক্ষমতা দূর করতে সাহায্য করে।
  • ডিমে উপস্থিত আয়রন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়ায়।
  • রেটিনার কর্মদক্ষতা বাড়ায় এবং ছানি সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা হ্রাস করে।
  • ডিমে প্রায় ৩০০ গ্রাম কোলিন পাওয়া যায় যা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়।
  • ডিমে উপস্থিত সেলেনিয়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারীতা বাড়ায়। পাশাপাশি থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। যার ফলে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই কমে যায়।

ডিম খাওয়ায় সতর্কতাঃ-
বিভিন্ন উপায়েই ডিম খাওয়া যায়। তবে কাঁচা ডিমে সালমোনেলা, সিগেলা নামক জীবানু সংক্রমনের আশংকা থাকায় তা পরিহার করা উত্তম। সকালের নাশতায় ১টা সিদ্ধ ডিম ও ১ গ্লাস পানি পান করলে সারাদিন কর্মঠ থাকা যায়, ক্ষুধা কম হয় যার ফলে খাওয়া কম হয় এবং মাসে ৩ পাউন্ড ওজন কমে যায়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সিদ্ধ ডিম খেলে পেশী সুগঠিত ও সাবলীল হয়।

ডিম নিয়ে যত ভ্রান্ত ধারণাঃ-

  • ডিমের কোলেস্টেরল রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে না, বরং রক্তের ভালো কোলেসস্টেরল বৃদ্ধি করে।
  • অনেকেই মনে করেন ডিমের সাদা অংশ খাওয়া ভালো তবে কুসুম খাওয়া উচিত নয়। যেখানে পুরো ডিমে ৭২ ক্যালরি রয়েছে সেখানে সাদা অংশে মাত্র ১৭ ক্যালরি রয়েছে এবং প্রোটিন ছাড়া তেমন কোন পুষ্টিগুন নেই।
  • আবার অনেকেই মনে করেন লাল ডিম ও সাদা ডিমের পুষ্টিগুন ভিন্ন। লাল ডিমে পুষ্টিগুন বেশি থাকে। প্রকৃতপক্ষে সব ডিমের পুষ্টিগুন একই, মৌলিক কোন তফাৎ নেই, তফাৎ শুধু আকারে।

ডিম সংরক্ষণের উপায়ঃ-
গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ডিম সংরক্ষণ একটু কষ্টকর। তাই কেনার পরেই রেফ্রিজারেটরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। অথবা এমন কোন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে তাপমাত্রা ৩০ডিগ্রি ফারেনহাইট এর বেশি নয়। আবার একটি হাড়ির মধ্যে শুকনো তুষ বা বিচালি বিছিয়ে তার উপর ডিম রেখে অই হাড়ির অর্ধেকাংশ মাটির নীচে পুঁতে রেখে যায়। আর হাড়ির মুখ চাপা দিয়ে গায়ে কয়েকটি ফুটো করে দিয়ে বাতাস চলাচলের ব্যাবস্থা করে ১৫ দিনের মতো সংরক্ষণ করা যায়।

ডিমের খোসাও ফেলনা নয়!
শুধু খাওয়ার জন্যই নয় ডিমের খোসাও বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। ডিমের খোসায় ৯৫% ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও ৫% ক্যালসিয়াম ফসফেট এবং ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট রয়েছে। পাখির ব্রিডিং এর সময় ক্যালসিয়াম এর পরিমান কমে গেলে ডিমের খোসাকে এগফুডে রুপান্তর করে পাখিকে খাওয়ানো যায়। মুরগির উত্তম খাবার ডিমের উচ্ছিষ্ট খোসা। আবার প্রাকৃতিক জৈব সার হিসাবে এটি গাছে ফলন বৃদ্ধি করে এবং গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয়। জৈব কীটনাশক হিসাবেও ডিমের খোসা ব্যাবহার করা হয়।

শুধু সুস্বাস্থ্যের জন্য নয় দেশের জিডিপিতেও ডিমের কোন বিকল্প নেই। ২০১৮-১৯ এর তথ্যানুসারে দেশের জিডিপিতে ডিমের অবদান ১৭১১ কোটি টাকা। এই সেক্টরের সাথে লাখ লাখ মানুষের জীবন এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আগামী বিশ্বে সচেতন মানুষের কাছে ডিমের গুরুত্ব ও চাহিদা বাড়বে বহুগুণে, তাই টেকসই ও গুরুত্ববহ বিষয় হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সেক্টরের দিকে নজর দিবেন বলে আশা করি।

এতটুকু একদম পরিষ্কার যে, সুস্থ সবল ও উন্নত জাতি গঠনে ডিমের কোন বিকল্প নাই। আর তাই আবারো বলি "ডিম খান প্রতিদিন, ডিমের গুন অপরিসীম"।

সংকলন ও পরিমার্জনঃ
তাজকিয়া আকবর ঋতু
প্রথম বর্ষ, প্রথম সেমিষ্টার।
প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।




  এ বিভাগের অন্যান্য