www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

ফলাফল প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি


 এগ্রিবার্তা ডেস্কঃ    ২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১:২৭   ক্যাম্পাস বিভাগ


অতি দ্রুত ফলাফল প্রকাশের দাবিতে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৭ বছরে তাদের ফলাফল প্রকাশ না করা সহ নানা অসঙ্গতির বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য পুরো চিঠি তুলে ধরা হল-

আমরা ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থী। অনেক স্বপ্ন নিয়ে আপনার হাতে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবরে উদ্বোধিত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে প্রথম ব্যাচে ২০১৩-২০১৪ সেশনে ভর্তি হয়েছিলাম। কলেজটি তখন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে কলেজটি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।

২০১৮ সালে আমদের ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল কিন্ত বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার কারনে সেটা সম্ভব হয়নি। সবকিছু মেনে নিয়েই আমরা প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছি ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে। কিন্তু প্রশাসনিক অধিভুক্তি জটিলতার কারনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের রেজাল্ট প্রকাশ করছিল না। এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে কলেজটি পুনরায় অধিভুক্তি পরিবর্তন করে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়েছে। তবুও রেজাল্ট প্রকাশ হচ্ছে না। কবে হবে তাও জানি না, সার্টিফিকেট পাবো কিনা এটা নিয়ে সংশয়। আর যখন পাবো তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে। আমরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সরকারি চাকরির বয়স হারাচ্ছি। একটার পর একটা সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি চলে যাচ্ছে আমরা আবেদন করতে পারছি না। আর কতদিন এভাবে নষ্ট হবে?

৫ বছরের ডিভিএম ডিগ্রির প্রায় ৭ বছর শেষ হল, তবুও এখনো পর্যন্ত আমরা ডিগ্রী বা আমাদের সার্টিফিকেট পাইনি। আপনার হাতে উন্মোচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে এসে আমাদের এমন দুরবস্থা হবে সেটা কল্পনার অযোগ্য হলেও তা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এমন অবস্থা যে, যেই ক্যাম্পাসকে ঘিরে একদিন হাজারো স্বপ্নের বীজ বুনেছিলাম সেই ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন পাপ বলে মনে হয়।

সকলের পরিবার তার সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে আছে, কবে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু আমরা অসহায়, না পারি পরিবারকে বোঝাতে, না পারি নিজেকে বোঝাতে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না।

হে মমতাময়ী জননেত্রী, আপনি চাইলেই পারেন আমাদের এই সমস্যা সমাধান করতে, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, করজোড়ে মিনতি করছি, আমাদের ভবিষ্যত নষ্ট হওয়া থেকে বাচান।

বিনীত,
১ম ব্যচের শিক্ষার্থীবৃন্দ
ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ,ঝিনাইদহ




  এ বিভাগের অন্যান্য