www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইলিশ সংরক্ষণে নেওয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে পাঙ্গাশ মাছ বাড়িয়েছে


 এস এ    ১৬ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ৪:৪৫   মৎস্য  বিভাগ


বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকার নদীতে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ছে। মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্য গবেষকরা বলছেন, ইলিশ মাছ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুফল হিসেবে অন্যান্য বছরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি ও বড় আকারের পাঙ্গাশ মাছ এ বছর ধরা পড়ছে। মূলত মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ার ঘটনা ঘটছে গত কয়েক সপ্তাহে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন মৃধা জানান, ওই এলাকাসংলগ্ন অঞ্চলে অন্যান্য বছরের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়েছে এ বছর।

মুন্সীগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল আলীম বলেন, 'এই বছর বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাশ মাছ পাওয়া গেলেও এটি আসলে কয়েক বছরের মৎস্য সংরক্ষণ কার্যক্রমের সুফল।'

মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য গত কয়েক বছর নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ওই নিষেধাজ্ঞা ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাশ মাছের সংখ্যা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল আলীম।

‌'মা ইলিশ রক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে যে ২২ দিন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তার পাশাপাশি সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বা জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপগুলোও পাঙ্গাশ মাছের সংখ্যা বাড়ানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।'

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আখেরী নাইমা বলেন, পাঙ্গাশ মাছের বংশবিস্তার পদ্ধতি এবং ডিম পাড়ার সময় অনেকটা ইলিশ মাছের সঙ্গে মিলে যায়, যে কারণে ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ পাঙ্গাশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রেখেছে।

আখেরী নাইমা বলেন, 'ইলিশ মাছের মতো গভীর সমুদ্রে না গেলেও পাঙ্গাশ নদীর মোহনা অঞ্চলে থাকে। বছরের এই সময়টায়, যখন ইলিশ মাছ ডিম পাড়ার জন্য নদীতে আসে, তখন পাঙ্গাশও নদীতে আসে। আর প্রায় দু-তিন সপ্তাহ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার পর এই সময়টায় বেশি পরিমাণ বড় আকৃতির পাঙ্গাশ জেলেদের জালে ধরা পড়ে।'

পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিরতিতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার কার্যক্রম টানা কয়েক বছর ধরে বাস্তবায়িত হতে থাকায় ইলিশ মাছের পাশাপাশি পাঙ্গাশ মাছের বসবাসের জন্য অনুকূল পরিবেশ নদীতে তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন আখেরী নাইমা।

মুন্সীগঞ্জ জেলার মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল আলীম মনে করেন, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে এবং মৎস্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নেওয়া সরকারের পদক্ষেপগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারলে পাঙ্গাশের উৎপাদন আরো কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে পাঙ্গাশের পোনা ধরা আইনত নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক জেলেই লুকিয়ে এসব পোনা ধরে। চাঁদপুরে একসময় বড় আকৃতির চাই ব্যবহার করে পোনা ধরা হতো। গত কয়েক বছরে কর্তৃপক্ষের ব্যাপক প্রচারণা ও অভিযানের পর ওই ধরনের কার্যক্রম অনেক কমেছে।'

গত কয়েক বছরে নদীর মাছ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নেওয়া এই ধরনের উদ্যোগগুলোই নদীতে পাঙ্গাশের উপস্থিতি বাড়ানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন আবদুল আলীম।

এ ছাড়া গত মাসে দুই দফা নিম্নচাপ হওয়ার কারণেও নদীতে মাছের সংখ্যা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন আবদুল আলীম।

'নভেম্বরের এক তারিখ থেকে আগামী জুন পর্যন্ত জাটকা মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তবে অনেক জেলেই এ সময় লুকিয়ে মাছ ধরে। জেলেদের সচেতন করা গেলে এবং এই নিষেধাজ্ঞাগুলো এক-দুই বছর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তার পর থেকে বাজার মাছে সয়লাব হয়ে যাবে।'




  এ বিভাগের অন্যান্য