www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে কলেজ শিক্ষার্থীর সাফল্য


 এস এ    ১৮ নভেম্বর ২০২০, বুধবার, ১২:২৫   উদ্যোক্তা বিভাগ


কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সোহেল মাহমুদ। বরিশাল বিএম কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অবসর সময় পার করছিলেন। তখন ইউটিউব দেখে হঠাৎ মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে করতে উৎসাহী হন। এরপর থেকে অনাবাদি ১০ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ শুরু। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় অসময়ে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে সাফল্য এসেছে তাঁর। সোহেল বরিশাল বিএম কলেজের দর্শণ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল। তবে নিজে কখনো চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এবারই প্রথম তরমুজ চাষ করেছেন তা-ও আবার মাচা পদ্ধতিতে।

উদ্যোক্তা সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে বাড়িতে চলে আসি। অনেকটা অবসর সময় কাটছিল। হঠাৎ একদিন ইউটিউবে দেখতে পাই, মাচা পদ্ধতিতে অসময়েও তরমুজ চাষ করা যায়। আর সময় না করে বাড়ির পাশের অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেই। ইউটিউব দেখে দেখেই অসময়ে তরমুজ চাষ করতে সক্ষম হই।’

কৃষি বিভাগ জানায়, বাড়ির পাশে নিজেদের অনাবাদি ১০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেন সোহেল। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে তরমুজ চাষ প্রক্রিয়া শুরু করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাচায় সবুজ লতায় মোরানো গাছ, এর ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে তরমুজ। প্রতিটি তরমুজ সুতার জালে মোরানো। একেকটি তরমুজ তিন থেকে চার কেজি ওজনের। বেশিরভাগ তরমুজ এখন বিক্রয় উপযোগী। অসময়ে তরমুজ চাষে সফল সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘এই তরমুজ চাষ করতে আমার ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে ৩৫০টি তরমুজ করার উপযোগী। ভালো দাম পেলে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’

দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজ উৎপাদনে অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত এ উপজেলা। সাধারণত ডিসেম্বর মাসের প্রথমদিকে তরমুজ চাষাবাদ শুরু হয়। কিন্তু মৌসুম শুরুর তিন মাস আগেই মাচা পদ্ধতিতে এবার প্রথম এখানে তরমুজ চাষ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভার্কের উপজেলা সমন্বয়কারী মোহসীন তালুকদার বলেন, ‘আকারে ছোট হলেও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে ঝুঁকি কম। পানি জমে থাকে না। নালা দিয়ে পানি সরে যায়। তবে একটু উঁচু জায়গায় প্রজেক্ট করতে হবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাঙ্গাবালীতে প্রথমবারের মতো মাচা পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছে সোহেল মাহমুদ। তিনি পেশাদার কোন চাষি নন, ছাত্র। করোনা পরিস্থিতির কারণে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদের আওতায় আনার বিষয়ে সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষাবাদ করলে বৃষ্টি-বর্ষায় ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। কম খরচে লাভবানও হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর অসময়ের তরমুজে দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই সোহেলের মতো অন্যরাও এই উদ্যোগ নিয়ে লাভবান হতে পারে। আমরা সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগীতা করবো।’