www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

আরেক দফা বাড়ল চালের দাম


 এস এ    ৪ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১১:৫৩   কৃষি পণ্য বিভাগ


রাজধানীর খুচরা বাজারে আরেক দফা বাড়ল চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মোটা ও মাঝারি আকারের চালে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা বেড়েছে। সেক্ষেত্রে কেজিতে বাড়ল তিন টাকা। পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। সঙ্গে মসলাজাতীয় পণ্য জিরা ও লবঙ্গের দামও বেড়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা ও ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে বৃহস্পতিবার এ চিত্র পাওয়া গেছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায়ও এসব পণ্যের দাম বাড়ার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। টিসিবি বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে মাঝারি আকারের চালের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণার দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১১ শতাংশ। আর বোতলজাত ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বোতলজাত সয়াবিনে দাম প্রতি লিটারে বেড়েছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এছাড়া পাম অয়েল সুপার প্রতি লিটারে বেড়েছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। লুজ আর পাম অয়েল প্রতিলিটারে মূল্য বেড়েছে হয়েছে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। টিসিবি আরও বলছে, বৃহস্পতিবার সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি জিরায় দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। লবঙ্গ কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

রাজধানীর খুচরা বাজারে চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি মাঝারি আকারের চালের মধ্যে বিআর-২৮ ও পাইজাম বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল সর্বোচ্চ ৫২ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৫ টাকা।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা দিদার হোসেন বলেন, বাজারে নতুন মৌসুমের আমন ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। ক্রেতাসহ বিক্রেতারাও তাকিয়ে ছিল এই চাল বাজারে আসলে সব ধরনের চালের দাম কমতে থাকবে। কিন্তু ঘটেছে উল্টো চিত্র। আমন ধানের নতুন চাল বাজারে এলেও ধানের দাম বাড়তি অজুহাতে চালের দাম মিলাররা আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে মোটা ও মাঝারি আকারের চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আরেক দফা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল বিক্রেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মিলারদের কারসাজির কারণেই এ বছর করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চালের দাম বাড়ছে। যা ভোক্তা পর্যায়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চালের পাশাপাশি গত তিন মাস ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এই সময় মিলগেটে সিন্ডিকেটের কারণে ধাপে ধাপে ভোজ্যতেলের দামও পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে। সর্বশেষ গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে আরেক দফা ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে।

এদিন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ১১৫ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে কোম্পানিভেদে ৫০০-৫৩০ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ৪৯০-৫২৫ টাকা।

এছাড়া সয়াবিনের সঙ্গে পাম অয়েলের দামও বেড়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি লিটার লুজ পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৯২ টাকা, সাত দিন আগে ছিল ৮৬-৮৮ টাকা। পাশাপাশি পাম অয়েল সুপার প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৯৪-৯৭ টাকা। যা সাত দিন আগে ছিল ৯১-৯৪ টাকা।

নয়াবাজারের নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. তন্ময় মজুমদার বলেন, প্রতি সপ্তাহে বাজারে এলেই দেখা যায় কিছু না কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। সরবরাহ বাড়ার ফলে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম কমলেও চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। সঙ্গে ভোজ্যতেলের দামও বাড়তি।