www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

দামুড়হুদার জমে উঠেছে কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র


 এস এ    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ৫:৫১   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র জমে উঠেছে। প্রতিদিন এ এলাকায় উৎপাদিত হাজার হাজার মণ সবজি ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে এ কেন্দ্রের মাধ্যমে। এতে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। কেন্দ্রটি দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও মার্কেটিং ফ্যাসিলিটেটর বদরুল আলম।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে দামুড়হুদা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ ও বিপণনের সুবিধার্থে জয়রামপুর ও পারকৃষ্ণপুর-মদনায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কৃষি অধিদপ্তরের দ্বিতীয় শষ্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প নির্মাণ করে দুটি কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্র। ওই সময় এলাকার কৃষকরা সমিতির মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য বেগুন, লাউ, চিচিঙ্গা, পেঁপে, কলা, কুমড়া, পেয়ারা, কুল, কাঁঠাল, ড্রাগন ফল, মালটাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে শুরু করে।

সূত্র আরো জানায়, কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হচ্ছিলেন। তবে দুই বছর চলার পর দুটি কেন্দ্রই বন্ধ হয়ে যায়। পরে জয়রামপুরের কেন্দ্রটি চালু হলেও বন্ধ রয়েছে পারকৃষ্ণপুর-মদনা কেন্দ্রটি।

জানা গেছে, পারকৃষ্ণপুর-মদনা এলাকায় সবজি আবাদ কম হওয়ায় কেবল আমের সময় কেন্দ্রটির কার্যক্রম চলে। এখান থেকে আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। তবে জয়রামপুর বিপণন কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৭-৮ ট্রাক মালামাল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এতে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। তাঁরা পাচ্ছেন বিক্রিত পণ্যের সঠিক মূল্য।

দামুড়হুদার জয়রামপুর গ্রামের সবজি চাষি আব্দুল হান্নান, আক্কাছ আলি ও শাহানানেওয়াজ বলেন, কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। এখানে কৃষিপণ্য আনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তা কিনে নিয়ে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া এসব পণ্য নিজেরাই সমিতির মাধ্যমে ট্রাকবোঝাই করে নিজেরা না গিয়েও সরাসরি ঢাকা, খুলনা ও চিটাগাংয়ের নিজেদের পছন্দের আড়তে পাঠাতে পারছি। সেখানে বেচাকেনা শেষে ঘরে বসে বিক্রিত মালের টাকা বিকাশের মাধ্যমে অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছি। এতে আমাদের সময় কম লাগছে, তেমনি ঘরে বসে সঠিক মূল্য পাচ্ছি।

উদ্যোক্তা শাহানেওয়াজ ও আব্দুল হালিম বলেন, এলাকার কৃষকরা আমাদের মাধ্যমে তাঁদের মালামাল এনে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছেন। আমরা ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন আড়তের সঙ্গে তাঁদেরকে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। তাঁরা স্থানীয় বাজার ছাড়াও বাইরে বেশি মূল্যে মালামাল বিক্রি করতে পেরে লাভবান হচ্ছেন। আমাদের এখানে জায়গা কম হওয়ায় মহাসড়কের পাশে ট্রাকে সবজি ও ফল তোলার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর-মদনার কেন্দ্র এলাকায় সবজির চাষ না থাকায় কেবল আম বাজারজাত করার সময় কেন্দ্রটি সরগরম থাকে। এলাকার কৃষকরা ঘরে বসে তাঁদের উৎপাদিত সবজি ও ফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করতে পারেন। এরপর বিকাশ অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাঁদের টাকা পৌঁছে যায়। তবে ঢাকা, চট্টগ্রামে মালামাল পাঠাতে তাঁদেরকে ফেরি পারাপারে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ফেরি পারাপারের সময় নিশ্চিত হলে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হতেন এবং এতে তাদের আরো আগ্রহ বাড়তো।




  এ বিভাগের অন্যান্য