www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

ডিভিএম এবং এএইচ ডিগ্রী একীভূতকরণ মন্ত্রণালয়ের চিঠি

ডিগ্রী একীভূত করতে উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়


 বাকৃবি প্রতিনিধিঃ    ৯ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:৩৭   ক্যাম্পাস বিভাগ


একীভূত ডিভিএম এবং এএইচ ডিগ্রী প্রবর্তন করতে ২০১৭ সালে দেশের সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বরাবর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র প্রেরণ করলেও কোন প্রকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০১৭ সালের ১৮ মে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিগার সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ডিভিএম এবং এএইচ ডিগ্রী একীভূত করে B.Sc Vet. Sci. & AH (Bachelor of Veterinary Science and Animal Husbandry) নামে সমন্বিত ডিগ্রী প্রবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। নথি নং- ৩৩.০১.০০০০.১১৮.২৪.৪৫১.১৭-৩৩৮। সূত্র: এ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর স্মারক নং-১০৫৪/৩/আহকাব। তারিখঃ ২৬/০৪/২০১৭।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে, আহকাবের পত্রের ছায়ালিপি যুক্ত করে জানানো হয়, সময়ের পরিক্রমায় আজ বাংলাদেশের প্রাণিজ সেক্টর সমৃদ্ধ হলেও আশির দশকের শুরুতে অত্যন্ত অল্প সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট এ বিষয়ে অবহিত ছিলেন। শুধুমাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিএম এবং এএইচ গ্র্যাজুয়েটগণ দু’টি ভিন্ন বিষয়ের ডিগ্রী অর্জন করতো। উদ্যোক্তাগণ দ্বিধান্বিত চিত্তে দু’টি ভিন্ন ডিগ্রীর গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ দিতেন।

চাহিদার আলোকে সরকার উদ্যোগী হয়ে যৌথ কারিকুলাম সমৃদ্ধ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে। বাংলাদশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এর পরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে খোলা হয় এএইচ ডিগ্রী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ফ্যাকাল্টির ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী মনোভাব বিরাজমান। বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মক্ষেত্রেও এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটগণ প্রায়শঃ পূর্ববর্তী তিক্ততার জের ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সমস্যা তৈরি করেন, শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রায়শঃই কর্মপরিবেশকে দূর্বীষহ করে তোলে। এছাড়াও ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে তথা সভা-সেমিনারে এই দুই পেশার পরস্পর বিরোধী অবস্থান উদ্যোক্তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতি ফেলে। এছাড়া দুই পেশার দ্বন্দে প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সূত্রস্থ স্মারকে নিম্নোক্ত সুপারিশ করেছে:
‘প্রাণিজ শিল্পের উদ্যোক্তাগণ এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে সমন্বিত গ্র্যাজুয়েটদের প্রাধান্য দিচ্ছে। এই শিল্পের বড় প্রতিষ্টানসমূহে শতকরা ৮০ ভাগের বেশী গ্র্যাজুয়েট সমন্বিত ডিগ্রীধারী। তাই বর্তমানে দ্বিধাবিভক্ত ডিগ্রীকে একীভূত করা জরুরী যাতে এই দুই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটদের কর্মক্ষেত্রে অনুপ্রবেশে সম্মুখীন হতে না হয়। বর্তমানে ডিগ্রীধারীদের যে কেউ মেডিসিন, সার্জারি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যারাসাইটোলজি, জেনেটিক্স এবং ব্রিডিং, নিউট্রিশন, ডেইরি বা পোল্ট্রি বিষয়ে মাস্টার্স কিংবা উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিভাগ খোলা এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

চিঠির শেষে জানানো হয়, সময়ের প্রয়োজনে এবং বাস্তবতার নিরীখে প্রাণিসম্পদ সেক্টরের উন্নয়নে সমন্বিত একক ডিগ্রীর প্রবর্তন হওয়া প্রয়োজন। বর্ণিতাবস্থায়, প্রাণিসম্পদ সেক্টরের উন্নয়নে B.Sc Vet. Sci. & AH (Bachelor of Veterinary Science and Animal Husbandry) নামে সমন্বিত একক ডিগ্রীর প্রবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের অনেক শিক্ষকের অভিযোগ, ২০১৭ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র পেলেও কোন প্রকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. আলী আকবর। উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) এর কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে শুধুমাত্র ডিভিএম ডিগ্রীধারীদের জন্য একবছর ও এএইচ ডিগ্রীধারীদের জন্য একবছর ছয় মাস মেয়াদী মেকআপ কোর্স প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এ নিয়ম অনুযায়ী ৪১তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে ৭৬ টি পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে শুধু ডিভিএম ডিগ্রীধারীদের জন্য ৫৯ টি এবং শুধু এএইচ ডিগ্রীদারীদের জন্য ১৭টি পদ রয়েছে অথচ সমন্বিত ডিগ্রীধারীরা ঐ ৫৯ টি অথবা ১৭টি পদেই আবেদন করতে পারবে।




  এ বিভাগের অন্যান্য