www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

ভেটেরিনারি-এএইচ যুদ্ধ ও একটি প্রস্তাবনা


 সম্পাদকীয়    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১০:৫২   সম্পাদকীয় বিভাগ


আমি উনিশশো পঁচাত্তর সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র তারপর উনিশশো বিরাশি সালে লেকচারার, আর উনিশশো আটাশি সনে শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রী PhD এবং দীর্ঘ দিনের শিক্ষকতা সহ চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের  চার বছরের উপাচার্যের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালনের পর এখন আমার চাকুরী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল হাজবেন্ড্রির ছাত্র এবং এই গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি ও ডিএলএসে এদের চাকুরী সম্বন্ধে কিছু অনুভূতি প্রকাশ না করে আমি আর থাকতে পারছিনা। 

আমার এই লিখাটি বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদের দুই ধরনের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট (DVM ও AH (Hons) ছাত্র-ছাত্রীদের ঘিরেই মূলত লেখা।  প্রাণিসম্পদের অতীত ইতিহাস নিয়ে এখানে কোন দীর্ঘ আলোচনা করবো না। কোন ডিবেটেও যাবো না। সময়ের আবর্তনে প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত এদেশে এখন তিনটি আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী দেয়া হচ্ছে DVM, BSc AH (Hons) ও BVet Sc and AH । তৃতীয়টি এখনো গ্র্যাজুয়েট বের হয়নি, হতে যাচ্ছে।

বিনয়ের সাথে এই লিখাটি লিখতে গিয়ে আমি DVM কিংবা AH ডিগ্রিকে কোন ভাবেই ছোট করে দেখছিনা। এ দুটি ডিগ্রি তার নিজ মহিমায় এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতেই পারে। ডিভিএম /AH এগুলো আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রী। এগুলো কোন অসম্পূর্ণ ডিগ্রি নয়। তবে এই ডিগ্রি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারী আমলাদের (চাকুরি দাতারা) দৃষ্টিতে অসম্পূর্ণ। যার প্রতিফলন দুই যুগ পর অর্গানোগ্রামের আগমন যাতে হতাশ দুই ডিগ্রিধারীরাই। কেউ একটু বেশী কেউ একটু কম। আমলাদেরকে বুঝানো যায় না। ওনাদেরও যুক্তি আছে। ওনাদের যুক্তির কাছে আমরা বরাবরই হেরে যাই। আর এই বাংলাদেশের সরকারি আমলারা তারাই যারা আমাদের /আপনাদের গ্র্যাজুয়েটদের চাকুরি দিয়ে থাকেন। যদি তাই হয় আপনি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলেন আর তারা সরকারি চাকুরী পেল না। আমাদের কি কিছুই করার নেই? তাই বলি আসুন না আরেক বার আমরা চেষ্টা করি? আমাদের কি অসুবিধা? আপনারা কেউ (উভয় ফ্যাকাল্টি) না করতে চাইলে করবেন না। আপনার গ্র্যাজুয়েটদের চাকুরী সমস্যার সমাধান কি হবে? হবে না। আপনারা/গ্র্যাজুয়েটরা রাস্তায় নামবেন, নামান। তাতেও হবেনা, কারণ একদল রাস্তায় নামবে তো আরেকদল নামবেনা। আমাদের ঐক্যমত দরকার। কিন্তু সেই ঐক্যমতটা কি?

এ নিয়ে ছাত্র অবস্থায় অনেক আন্দোলন করেছি। আমি ১৯৭৮-৮৯ সনে বাকৃবির ভেট ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি ছিলাম। এএইচ ছাত্র সমিতির সাথে আমরা এক হয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চাইলা, আন্দোলন করলাম। তারপর এক অজানা কারনে এএইচ ছাত্র সমিতি অন্দোলন হতে পিছিয়ে পড়লেন। আমাদের দুই অনুষদের শিক্ষকদেরতো কোন ক্ষতি নেই। যত সমস্যা ছাত্র-ছাত্রীদের চাকুরী সমস্য। পরিবর্তন কিছুই হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে কিনা তা আমার পুরাটাই সন্দেহ লাগে। আপনি বিশ্বমানের ডিগ্রী দিয়ে কি করবেন বলুন, যদি আপনার পণ্য (গ্র্যাজুয়েট) বিক্রি করতে না পারেন? হ্যা বিক্রিতো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে তবে সেল আউট এর টার্ন ওভার খুব কম। গ্র্যাজুয়েটরাই সাফারার। আর যদি কম্বাইন্ড ডিগ্রি হয় বিক্রির টার্নওভার হবে আকাশ সমান । ডিএলএস লুফে নিবে। একটা প্রডাক্ট করে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু ঐ কম্বাইন্ড ডিগ্রি অলরেডি চালু করে দিয়েছেন। আমরা তখন থাকবো না। তখন দেখবেন মজা।

ডিগ্রির নামের অহংকার দিয়ে কি হবে ভাই? চলুন না আমার আপনার গ্র্যাজুয়েটদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করি। আমার স্পষ্ট প্রস্তাবনা চলুন আমরা বাকৃবির দুই ফ্যাকাল্টি এক হয়ে যাই (অনেকেই হয়তো কথাটা শুনে হাসবেন বলবেন এটা অবাস্তব)। আমরা একটা ডিগ্রি চালু করি। যার যার ফ্যাকাল্টির শিক্ষকরা তাদের অবস্থানেই ওনারা থাকবেন। আমরা কি বেতন কম পাবো? নাকি আমাদের চাকুরি চলে যাবে? এই দুই অনুষদ হতে যথারীতি MS আর PhD ডিগ্রিতো চলতেই থাকবে। আপনার Research Grant তো বন্ধ হবেনা। বরং লাভ হবে আমাদের দুই ফ্যকাল্টির ছাত্রছাত্রীদের চাকুরীর ক্ষেত্রে। আমার আপনার কিছুই হবেনা, মাস গেলে ঠিকই বেতন পাবো। ভবিষ্যতে বিপদে পড়বে আমার আপনার গ্র্যাজুয়েট। যেভাবে বিগত কয়েক যুগ ধরে চলে আসছে যেমন ভাবে আরব আর ইজরাইলের যুদ্ধ।

ইতিমধ্য এই যুদ্ধের তাণ্ডবে বাকৃবির All together Group এ Admin এই সকল post বন্ধ করে দিয়েছে। এতে ওনাদের যথেষ্ট যুক্তিও আছে বলে মনে করি। আপনার দ্বিমত থাকলে আপনিও লিখুন, পরামর্শ দিন তবে যুক্তি সহকারে উপস্থাপন করুন। আমি কোন বাহবা বা তালি পাবার জন্য নয় কিংবা কাউকে ছোট করে দেখার জন্য নয়। এটি আমার দুই অনুষদের গ্র্যাজুয়েটদের ভবিষ্যত নিয়ে একান্তই ব্যক্তিগত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। আর কতকাল আমরা আরব আর ইজরাইল স্টাইলে যুদ্ধ করবো? সেই আরব ইজরাইল যুদ্ধেরও তো প্রকট এখন কমে গেছে। আমাদেরটা কখন শেষ হবে?


ড. আবু সালেহ মাহফুজুল বারি
প্রফেসর, প্যাথলজি বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ও
সাবেক ভিসি, সিভাসু

(বি. দ্রঃ মতামত লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত। মতামতের জন্য এগ্রিবার্তা.কম দায়ী নয়।)




  এ বিভাগের অন্যান্য