বাঁশ ছন কমছে, হারাচ্ছে মাচাং ঘর
পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরগুলো, যা তাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। এই ঘরগুলো সাধারণত ছন ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত হয় এবং পাহাড়ের ঢালে ৫-৬ ফুট উচ্চতায় তৈরি করা হয়। মাচাং ঘরের নির্মাণশৈলী এবং এর ব্যবহার স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে জড়িত।
মাচাং ঘরগুলি মূলত বন্য পশু ও জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তৈরি করা হতো। তবে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এবং বনজঙ্গলের উজাড়ের কারণে এখন এসব ঘরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালের বিবর্তনে এবং জুম চাষের ফলে ছনের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে মাচাং ঘর নির্মাণে প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে না।
কাপ্তাই উপজেলার চাকুয়া পাড়ার বাসিন্দা হ্লালা চিং মারমা এবং মংসাই মারমা জানান, "আমাদের মাচাং ঘর আমাদের ঐতিহ্য। যদিও বর্তমানে এগুলোর সংখ্যা কমে গেছে, তবুও অনেকেই এই ঘরে বসবাস করে যাচ্ছেন।" তারা বলেন, “মাচাং ঘর তৈরিতে বর্তমানে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু এগুলো ২-৩ বছরের বেশি টেকে না।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাচাং ঘরের নির্মাণে ব্যবহৃত বাঁশ ও ছনের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ইট-পাথরের ঘরের দিকে ঝুঁকছেন। তবে তারা মনে করেন, মাচাং ঘরের সংস্কৃতি হারানো উচিত নয়। এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত সরকারের আমলে পাহাড়ি অঞ্চলে মাচাং ঘরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার প্রায় ৪০টি পরিবারকে বিনামূল্যে মাচাং ঘর উপহার দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোতে বর্তমানে পরিবারগুলো বসবাস করছে।
মাচাং ঘরের সৌন্দর্য এবং এর নির্মাণশৈলী স্থানীয় জনগণের জন্য গর্বের বিষয় হলেও আধুনিকতার প্রভাবে এটি এখন সংকটের সম্মুখীন। স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে তারা এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।