জৈব সারে কৃষি উদ্যোক্তা সায়রার আয় লাখ টাকা
সায়রা আমিন, সীতাকুণ্ডের লালানগর গ্রামের এক গৃহিণী, যিনি স্বামীর অসুস্থতা ও পরিবারিক সংকটকে জয় করে আজ একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। তার স্বামী আবদুর রহমান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২০২০ সালে দেশে ফিরে করোনাভাইরাস মহামারিতে আটকা পড়েন তিনি। বিদেশে ফেরার পর মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন। এই পরিস্থিতিতে সায়রা সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
শুরুর পথে বাধা ও লড়াই
স্বর্ণালংকার বিক্রি করে বাড়ির পাশে একটি পুকুর খনন করেন সায়রা। পুকুরের চারপাশে শুরু করেন সবজি চাষ। ধীরে ধীরে মাছ ও সবজি বিক্রির মাধ্যমে আয়ের পথ খুঁজে পান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি জৈব সার উৎপাদনেও মনোনিবেশ করেন।
জৈব সার উৎপাদনের রহস্য
সায়রা আমিনের তৈরি ট্রাইকো কম্পোস্ট সারের প্রধান উপকরণ হলো গরুর গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, সবজির উচ্ছিষ্ট, কচুরিপানা, কাঠের গুঁড়া, ভুট্টার ব্রান, চিটাগুড়, ছাই, নিমপাতা ও ট্রাইকোডারমা ছত্রাক। সঠিক অনুপাতে মিশ্রিত উপকরণগুলো ৪০-৪৫ দিন ধরে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় এই জৈব সার। প্রতি ৪৫ দিনে তিনি প্রায় ১০ টন সার উৎপাদন করেন, যা প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
সাফল্যের পথে সায়রার যাত্রা
প্রথম দিকে গ্রামের মানুষ তাকে উপহাস করত, কিন্তু স্বামীর অনুপ্রেরণায় তিনি থেমে থাকেননি। তার কারখানায় বর্তমানে আটজন নারী-পুরুষ কাজ করেন। সায়রা বলেন, "প্রথমে হাসি-তামাশা হলেও আমার স্বামীর সমর্থন আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।"
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার অভিমত
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ জানান, সায়রার তৈরি ট্রাইকো কম্পোস্ট সার মাটির গুণাগুণ বজায় রাখে, গাছের রোগ প্রতিরোধ করে এবং ফলন বাড়ায়। এমনকি এটি মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা
সায়রার কারখানায় কাজ করা জাফর বলেন, "কৃষি কাজে দৈনিক ৬০০ টাকা এবং জৈব সারের কারখানায় ৭০০ টাকা মজুরি পাই। তার সাফল্য গ্রামের তরুণ-তরুণীদের কৃষি কাজে উৎসাহী করছে।"
সায়রা আমিনের সাহস ও ধৈর্য তাকে শুধুমাত্র স্বাবলম্বী করেনি, বরং পুরো গ্রামে এক নতুন উদ্যমের সঞ্চার ঘটিয়েছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।