২১ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
ক্যাম্পাস

শিক্ষকদের রুমে তালাসহ ছাত্রদের হল ছাড়তে হুমকি শেকৃবি ছাত্রদলের

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
শিক্ষকদের রুমে তালাসহ ছাত্রদের হল ছাড়তে হুমকি শেকৃবি ছাত্রদলের

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একাংশের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের রুমে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, হুমকি প্রদান, এবং সিট ছাড়তে বাধ্য করছেন। এদের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং চাপ প্রয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষত, মধ্যরাতে বিভিন্ন হলে গিয়ে প্রায় ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জিব্রিল শরীফ, সাজু ইসলাম, রাশেদ, আহসান হাবীব, হামিদুর রহমান হিমেলসহ আরও অনেকে। কোনো শিক্ষার্থীকে সময় বেঁধে, আবার কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের শাসনামলে এমন ঘটনা প্রায়শই দেখা যেত। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একই ধরনের কার্যকলাপ ছাত্রদলের একাংশ চালিয়ে যাচ্ছে।

এক ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থী জানান, "জুলাই আন্দোলনে যারা শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছিল, তাদের এখন হলে থাকতে দেওয়া হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা ব্যক্তিগত আক্রোশে কিছু বলিনি। আন্দোলনের বিরোধীদের প্রতিই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"

অন্যদিকে, শিক্ষক রুমে তালা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ড. নজরুল ইসলাম, ড. হারুন-উর-রশীদসহ একাধিক শিক্ষকের রুম তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।

জিব্রিল শরীফ এ বিষয়ে বলেন, "যেসব শিক্ষক আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন এবং নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা প্রতীকি প্রতিবাদ করেছি।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আরফান আলী জানান, "আমরা এসব অভিযোগের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছি। যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। যেসব শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের রুমে তালা দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।"

তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, প্রক্টর পূর্বে ছাত্রদলের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে দোকানে প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে। ছাত্রদল নেতাদের আত্মীয়-স্বজনদের দোকান স্থাপন এবং ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদার দাবির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। যদিও অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, "ছাত্রদলের লিখিত সদস্য ব্যতীত অন্য কারো কর্মকাণ্ডের দায়ভার ছাত্রদল নেবে না।"

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।