চলনবিলে মধু উৎপাদনে ব্যস্ত মৌ-চাষীরা
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক মিঠাপানির বিল চলনবিল কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার নয়, বরং এটি কৃষি ও মৌ-চাষের এক অনন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বর্ষাকালে পানিতে ভরপুর চলনবিল শরৎকালে সোনালী ধানের মাঠে পরিণত হয়। আবার শীতের আগমনে এটি রূপান্তরিত হয় সরিষার হলুদ ফুলে মোড়া বিস্তৃত ভূমিতে। সরিষার ফুলের মিষ্টি সুবাসে মাতোয়ারা প্রকৃতি মুখরিত হয় মৌমাছির গুঞ্জনে।
চলতি শীত মৌসুমে, চলনবিলের তাড়াশ উপজেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ হাজার ৩ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ সফল হয়েছে। পাশাপাশি, ৩১ জন মৌ-চাষি প্রায় ৩,৬৩৯টি মৌ-বক্স নিয়ে সরিষার জমির পাশে খামার স্থাপন করেছেন। ইতোমধ্যে ৩,১৫০ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৌ-চাষিরা আশা করছেন নির্ধারিত ১১২ মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবেন।
তাড়াশ উপজেলার মাকোরশোন গ্রামের কৃষকরা জানান, এ বছর সময়মতো বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় তারা সরিষা রোপণ করতে পেরেছেন। সরিষার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি মধু সংগ্রহও ইতিবাচক গতিতে এগিয়ে চলেছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সরিষা চাষের আগাম প্রস্তুতির ফলে এ বছর ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিরন্তর পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।