২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট: ইরি ধান চাষে নিরুৎসাহ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১ জানুয়ারি ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট: ইরি ধান চাষে নিরুৎসাহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, নাচোল এবং গোমস্তাপুর উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাওয়ায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ইরি ধান চাষ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির সংকট ক্রমশই গভীরতর হচ্ছে। বিশেষত চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান খাদ্য উৎপাদন এলাকাগুলোতে পানির অভাব খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিএমডিএর মতে, ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমিয়ে ভবিষ্যতের সেচ ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিএমডিএ ইরি ধান চাষ বন্ধ করতে কৃষকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছে। নির্দেশ অমান্য করলে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে হতাশ কৃষকরা জানান, ধান চাষ তাদের মূল জীবিকা। অন্য ফসল থেকে এতোটা লাভ হয় না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার জানিয়েছেন, বিএমডিএ ধান চাষ কমিয়ে ডাল, সরিষা, গম এবং শাকসবজির মতো মৌসুমি ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। গম চাষে তুলনামূলক কম সেচ লাগে, যেখানে ইরি ধানে প্রয়োজন ১৭-১৯ বার সেচ।

প্রতিবছর ভূগর্ভে ৯০০ মিলিমিটার পানি জমা হলেও ফসল উৎপাদনে প্রয়োজন ১৩০০ মিলিমিটার। ফলে প্রতি বছর ৪০০ মিলিমিটার পানির ঘাটতি সৃষ্টি হয়। বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মুসাইদ মাসরুর জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষা ও সেচ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতেই বিকল্প ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলে ডাল, আলু, ভুট্টার মতো ফসল চাষে কম পানি লাগে। বিএমডিএর উদ্যোগ ভবিষ্যতের পানির সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে। তবে কৃষকদের ধান চাষে অভ্যস্ততা এবং বিকল্প ফসল থেকে কম আয় কৃষি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।