নেত্রকোনার মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ
নেত্রকোনায় সরিষা চাষে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। জেলার ১০টি উপজেলায় গত তিন বছরে সরিষার আবাদ প্রায় আড়াইগুণ বেড়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, রোপা আমন ও ইরি বোরো ধানের মাঝামাঝি সময়ে সরিষা চাষকে বোনাস ফসল হিসেবে গ্রহণ করছেন কৃষকরা। ফলে দিগন্তজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে কৃষকের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে নেত্রকোনার ১৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি। সদর উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর, পূর্বধলায় ২,৬৮৫ হেক্টর, কেন্দুয়ায় ১,৪৭৮ হেক্টর এবং মদনে ২,০১০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তবে অক্টোবরের বন্যার কারণে কিছু জমি উপযুক্ত না থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০০ হেক্টর কম জমিতে আবাদ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, গত বছর ১০ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল, যেখানে উৎপাদন ছিল ১৭,৭৭২ মেট্রিক টন। এর আগের বছর ২০২২ সালে আবাদ হয়েছিল ৭,৪৫০ হেক্টরে, উৎপাদন ছিল ৯,৬৭৬ মেট্রিক টন। এভাবে সরিষা চাষের পরিমাণ এবং উৎপাদন ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, "আমন ধানের পর জমি পতিত না রেখে সরিষা চাষ করছি। এতে নিজ পরিবারের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটছে।" একই গ্রামের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী নাজমুল কবীর সরকার বলেন, "সরিষা কম খরচে লাভজনক একটি ফসল। সঠিক প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগ নিলে এ ফসল আরও জনপ্রিয় হবে।"
সরিষা চাষ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কৃষি বিভাগ জানায়, ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে গত তিন বছর ধরে সরিষা চাষ বৃদ্ধির বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ এবং প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান আরও জানান, সরিষা একটি লাভজনক ফসল যা পতিত জমি কাজে লাগাতে সহায়ক। সরিষা চাষের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।