কেঁচো সার তৈরি ও মাশরুম চাষে সফল কৃষি উদ্যোক্তা আজিম
নাটোরের গুরুদাসপুরের বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি অনার্স কলেজ সংলগ্ন এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তা আজিম উদ্দিন কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) ও মাশরুম চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তার উৎপাদিত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরা বিষমুক্ত ফসল এবং সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
২০২২ সালে গুরুদাসপুর কৃষি অফিসের পরামর্শে আজিম উদ্দিন তার জমিতে সীমিত আকারে কেঁচো সার তৈরি শুরু করেন। তিনি বগুড়া থেকে থাইল্যান্ডের বিশেষ প্রজাতির কেঁচো সংগ্রহ করে এ উদ্যোগ নেন। শুরুতে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হলেও তার তৈরি সারের ফলন দেখে আশপাশের কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তার খামারে প্রতিদিন ১৭০-২০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ও টাইকো সার উৎপাদন হচ্ছে। প্রতি কেজি সার ১৬ টাকায় বিক্রি করে তিনি মাস শেষে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন।
এর পাশাপাশি মাশরুম চাষেও তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। ২০২১ সালে সাভারে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র ২০টি মাশরুম বেড দিয়ে শুরু করেন। এখন তার ফার্মে প্রায় ১,০০০ মাশরুম বেড রয়েছে। প্রতিদিন ৩-৪ কেজি মাশরুম উত্তোলন করে প্রতি কেজি ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি করেন। মাশরুম চাষ থেকে মাসে তার আয় হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা।
কৃষি অফিসার হারুনর রশিদ জানিয়েছেন, আজিম উদ্দিনের উদ্যোগকে সফল করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ এবং একটি মাশরুম চাষ ঘর নির্মাণে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল। আজিম উদ্দিনের সাফল্য দেখে এলাকার আরও অনেকে জৈব সার ও মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
আজিম উদ্দিন বলেছেন, শুরুতে তার পথচলা কঠিন ছিল, তবে এখন তিনি কেঁচো সার এবং মাশরুম চাষ থেকে মাসে ৬০-৭০ হাজার টাকা আয় করছেন। তার উদ্যোগ এলাকায় কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।