শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা
নেপাল, ভুটানসহ আশেপাশের দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার প্রতি দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও এই তালিকার শীর্ষে ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্র বদলেছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যেখানে গড়ে প্রতি বছর ১১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছিল, ২০২১ সালের পর থেকে এই সংখ্যা একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক সূত্র জানায়, কোভিড-১৯ মহামারির জটিলতা, সেশনজট, গবেষণা সুযোগের অভাব, এবং পর্যাপ্ত ব্যবহারিক সুবিধার অভাব এই সমস্যার মূল কারণ। নেপাল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ করে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, কারণ মহামারির সময় তাদের নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরতে হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থী মহেশ্বর ভগত মালী জানান, "শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কমিউনিটির মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সেশনজট এবং গবেষণার সুযোগের অভাব আমাদের অনেক শিক্ষার্থীকে নিরুৎসাহিত করছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা থাকাও প্রয়োজন।"
২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই প্রবণতা ধারা বজায় থাকলেও ২০২০ সালে মাত্র দুইজন এবং ২০২১ সালের পর থেকে আর কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।
একাডেমিক অ্যান্ড স্কলারশিপ বিভাগের সহকারী রেজিস্টার কৃষিবিদ হরি কমল দাশ বলেন, "বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়া আমাদের জন্য ইতিবাচক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর সংখ্যা কমে গেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, "বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা হয়েছে। সরাসরি আবেদন করে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সমস্যা শুনেছি এবং সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি আগামী দিনে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।"
উল্লেখ্য, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে যদি প্রশাসন যথাযথ উদ্যোগ নেয়। সেশনজট, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, এবং আবাসন সমস্যার সমাধান বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ ফিরিয়ে আনতে পারে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।