শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে মজুরি
হাওরাঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো ধানের মৌসুম শুরু হয়েছে। মধ্যনগর উপজেলায় এখন পুরোদমে চলছে বোরো আবাদ। কার্তিক মাসে বীজতলা তৈরি করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ধান কাটার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক সংকট, সার ও বীজসহ কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি কৃষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
উপজেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মধ্যনগরে ১৩ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে আবাদ শুরু হয়ে চলবে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত।
কৃষকরা বীজতলা থেকে ধানের চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণ করছেন। কেউ জমি সমান করছেন, কেউ সেচের ব্যবস্থা করছেন। গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে জমিতে পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। দলবদ্ধ হয়ে কাজ করলেও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই বোরো চাষে শঙ্কায় রয়েছেন।
বংশীকুন্ডা গ্রামের কৃষক এবিএম জুয়েল তালুকদার জানান, সব ধরনের কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির ফলে চাষাবাদ খরচ গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে, সাজদাপুর গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, ধানের দাম কম থাকায় ঋণের বোঝা বাড়ছে। এ বছর শ্রমিকের মজুরি ৬০০-৭০০ টাকা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার কৃষি বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ধর্মপাশা উপজেলা থেকে। ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার জানান, এ বছর ২ হাজার ৪০০ জন কৃষককে সরকারি প্রণোদনার আওতায় হাইব্রীড ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে। বাঁধ সংস্কারের কাজ সঠিকভাবে শেষ হলে কৃষকরা আগাম বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।