সন্দ্বীপের কৃষিতে চ্যালেঞ্জ: লবণাক্ততা আর খরার দৌরাত্ম্য
এক সময়ের উর্বর ভূমি সন্দ্বীপে আজ কৃষির অবস্থা সংকটজনক। স্থানীয় কৃষকদের শাকসবজি উৎপাদনের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায়, সন্দ্বীপবাসীকে যশোর এবং নরসিংদী থেকে সবজি আমদানি করতে হচ্ছে। কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাট এবং স্থানীয় আড়তগুলোর তথ্য অনুসারে, প্রতিদিন প্রায় ৯০ টন শাকসবজি সন্দ্বীপে প্রবেশ করছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার মতো সমস্যার সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সন্দ্বীপে মোট ৬০ হাজার ১০১ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। তবে, অধিকাংশ কৃষিজমি অনাবাদী থাকায় উৎপাদন ক্ষমতা আশানুরূপ নয়। স্থানীয় কৃষক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, “কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যায় না। কৃষির উন্নয়ন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা আমরা জানি না।”
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৯৮% কৃষক জানেন না কীভাবে লবণাক্ততা দূর করতে হয়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সন্দ্বীপে তীব্র হওয়ায়, কৃষকরা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে, অনেক কৃষকই কৃষি ছেড়ে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন।
সরকারি প্রণোদনার সার ও বীজ প্রকৃত কৃষকদের বদলে কৃষিবহির্ভূত ব্যক্তিদের কাছে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষক মো. আবছার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাঠের কৃষকের চেয়ে প্রণোদনা যাচ্ছে যারা কৃষক নন, তাঁদের কাছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূর্যমুখী চাষে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। প্রান্তিক কৃষকেরা সঠিক পরামর্শ ও তথ্যের অভাবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মগধরা ইউনিয়নের মো. শাহজালাল বলেন, “সূর্যমুখীর বীজ দিয়ে তেল উৎপাদন করেছি, কিন্তু বাজারজাত করতে পারিনি।”
সন্দ্বীপের কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে কৃষি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। খরা, লবণাক্ততা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে টিকে থাকার জন্য কৃষকদের সেচ সুবিধা, উন্নত বীজ এবং সঠিক পরামর্শ প্রদান জরুরি। বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার জানিয়েছেন, “সেচসুবিধা নিশ্চিত করার জন্য চট্টগ্রাম সার্কেলের সঙ্গে কথা বলা হবে।”
সন্দ্বীপের কৃষি পুনরুজ্জীবিত করতে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই দ্বীপের কৃষি খাতের উন্নয়ন অসম্ভব।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।