২১ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
ক্যাম্পাস

বাকৃবিতে চুরির ফুল দিয়ে ইসকন মন্দিরে পূজা, হাতেনাতে ধরলেন প্রভোস্ট

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বাকৃবিতে চুরির ফুল দিয়ে ইসকন মন্দিরে পূজা, হাতেনাতে ধরলেন প্রভোস্ট

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শহীদ নাজমুল আহসান হল থেকে তিন বস্তা ফুল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরপর চুরি করা ফুলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের পেছনে অবস্থিত ‘ভক্তি কুটির ইসকন মন্দিরে’ পুষ্পাঅভিষেক পুজার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে ইসকন মন্দিরে উপস্থিত হয়ে হাতেনাতে এক শিক্ষার্থীকে ধরেন ওই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম।

জানা যায়, সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বাকৃবির শহীদ নাজমুল আহসান হলের বাগান থেকে ফুল চুরির অভিযোগ ওঠে তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এরপর দুপুরে হল প্রভোস্ট ইসকন মন্দিরে সরেজমিনে গিয়ে হলের ফুল শনাক্ত করেন তিনি। এ সময় একজন শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান হল প্রভোস্ট। পরে বাকি দুই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে ডেকে আনা হয়। 

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং পরবর্তীতে এ ধরণের অপরাধ না করার অঙ্গীকার করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধির ৭ নং ধারা অনুযায়ী শহীদ নাজমুল আহসান হলের একজন শিক্ষার্থীকে জরিমানা করা হয়।  অপর দুই শিক্ষার্থীর (শহীদ শামসুল হক হলের) ছাত্রত্ব না থাকায় তাদের হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শহীদ নাজমুল আহসান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে হলের গার্ডরা বাগান থেকে ফুল চুরির ঘটনা আমাকে জানান। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে ইসকন মন্দিরে চুরিকৃত ফুল শনাক্ত করি। সেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। চুরির সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা হলের বাগান থেকে তিন বস্তা ফুল নিয়ে যায় এবং তা মন্দিরের পুজার কাজে ব্যবহার করে। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চুরি করা জিনিস দিয়ে করা যায় না।’

শামসুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, আমার হলের দুই শিক্ষার্থী জড়িত থাকায় তাৎক্ষণিক তাদের রুম তালাবদ্ধ করা হয়েছে এবং হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ধর্মীয় প্রার্থনা চুরি করা জিনিস দিয়ে হতে পারে না। অভিযুক্তরা পরিণত বয়সের শিক্ষার্থী। এটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।