বঙ্গোপসাগরে বেড়ে চলছে অনুমোদনহীন ট্রলিং বোট
বঙ্গোপসাগরে দিন দিন বেড়ে চলছে অনুমোদনহীন ট্রলিং বোটের ব্যবহার, যা অবাধে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। এসব বোটের কারণে সমুদ্রে সব ধরনের মাছের পোনা মারা যাচ্ছে, ফলে মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। গবেষকরা জানান, অগভীর সমুদ্রে ট্রলিং বোট ব্যবহার করে মাছ শিকার করার ফলে মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, এবং এর কারণে সরকারের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে।
মৎস্যজীবীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে সমুদ্র একসময় মাছ শূন্য হয়ে পড়বে। আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে জানা গেছে, সমুদ্রে মাছ শিকার শেষে নিষিদ্ধ ট্রলিং বোটগুলো শিববাড়িয়া নদীতে নোঙর করে থাকে এবং এসব নৌযানে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা হয়।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ট্রলিং বোট ৪০ মিটার গভীরতার নিচে মাছ শিকার করতে পারবে না, কিন্তু তা উপেক্ষা করে ট্রলিং বোটগুলো অবাধে সমুদ্রে মাছ শিকার করছে। এই অনিয়মের কারণে সাগরে মাছের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং মৎস্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মৎস্যজীবীরা বলেন, যদি ট্রলিং বোটের ব্যবহার বন্ধ না হয়, তবে কয়েক বছরের মধ্যে সমুদ্রের মাছ সম্পূর্ণ নিঃশেষিত হয়ে যাবে। এসব ট্রলিং বোটের কারণে সাধারণ মৎস্যজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং তাদের জীবিকা বিপদে পড়েছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তারা ট্রলিং বন্ধে উদ্যোগ নিলেও বোট মালিকরা আদালতে রিট আবেদন করেছেন, যার ফলে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারছে না মৎস্য বিভাগ। তবে, তারা আশা করছেন যে শিগগিরই আইনগত বাধা দূর হয়ে যাবে এবং ট্রলিং বোটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হবে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।