২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

নাটোরে ৫ বছরে কৃষি জমিতে প্রায় ২ হাজার পুকুর খনন

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
নাটোরে ৫ বছরে কৃষি জমিতে প্রায় ২ হাজার পুকুর খনন

নাটোর জেলার চলনবিল ও হালতিবিল দেশের কৃষি সম্পদে সমৃদ্ধ। এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর জীবনযাপন করেন। তারা সারা বছর ধান, গম, পাট এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। কিন্তু সম্প্রতি নাটোরে তিন ফসলি এবং দুই ফসলি জমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পুকুর খননের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে কৃষি জমি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে এবং খাদ্য উৎপাদনে হুমকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

গত পাঁচ বছরে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রায় দুই হাজার নতুন পুকুর খনন করেছেন। ফলে পুকুরের সংখ্যা ২৬,৩০০ থেকে বেড়ে ২৮,২৮০-এ দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিন ফসলি জমিতে এসব পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, এই জলাবদ্ধতার কারণে তাদের আবাদি জমি পানিতে ডুবে যাচ্ছে, ফলে সঠিক সময়ে ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তাদের জমিতে বছরে তিনটি ফসল হতো। কিন্তু এখন ফসল তোলার আগেই জলাবদ্ধতার কারণে পানি এসে জমি ডুবিয়ে দেয়। আব্দুর রহিম নামের এক কৃষক বলেন, তাঁর ছোট জমিটি পাশের পুকুরের কারণে পানিতে ডুবে যায়। ফলে ধান আবাদ করতে অতিরিক্ত খরচ হয় এবং ফসল থেকে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নাটোর মাছ চাষে সমৃদ্ধ জেলা এবং এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর। একইভাবে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আবাদি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুকুর খনন এবং কৃষি জমি ধ্বংস রোধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, উচ্চ ফলনশীল ফসলের চাষ বাড়িয়ে কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।