লালমনিরহাটে রেকর্ড সংখ্যক আগাম জাতের আলু চাষ
চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে আলু চাষে রেকর্ড হয়েছে। আগাম জাতের আলু চাষে কৃষকরা লাভের আশায় ঝুঁকলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তারা হতাশ।
গত তিন বছরে আলুর বাজার ছিল চড়া। ২০-১৫ টাকার আলুও ১২০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতায় এবার কৃষকেরা অধিক জমিতে আলু চাষ করেন।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তবে বাস্তবে এই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান, রত্নাই ও সতী নদীর চরাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে আলু চাষ হয়েছে। এমনকি কোল্ড স্টোরের মালিকরাও শত শত একর জমি লিজ নিয়ে আলু চাষে যুক্ত হয়েছেন।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাজারে আগাম আলু উঠতে শুরু করে। তবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই দাম দ্রুত কমতে থাকে। বর্তমানে আলুর দাম প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে।
এ বছর বীজ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এক বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৯-৪২ হাজার টাকা। কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচ তুলতে হলে বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি অন্তত ৩৫ টাকা থাকা প্রয়োজন।
ধরলার টুনটুনির চরের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, তার ১৮ বিঘা জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছেন। বীজ আলু প্রতি কেজি ১২০ টাকায় কিনতে হয়েছে। অথচ এখন আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ১৫ টাকায়। এতে প্রতি কেজিতে ১০ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইখুল আরিফিন বলেন, "কৃষকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মৌসুমের সময়মতো দাম বাড়বে। এখনো আলু রপ্তানি শুরু হয়নি। রপ্তানি শুরু হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন। প্রকৃত আলুর মৌসুম এখনো শুরু হয়নি।"
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।