ফুলকপি-বাঁধাকপি এখন কৃষকের গলার কাঁটা, পরিবহন খরচও উঠছে না
রংপুরের বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জের কৃষকেরা এবার ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। দেড় কেজি ওজনের প্রতিটি কপি পাইকারি বাজারে মাত্র আড়াই থেকে তিন টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এত কম দামে বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, বাজারে নেওয়ার খরচও উঠছে না। ফলে হতাশ কৃষকেরা বাধ্য হয়ে গবাদিপশুকে কপি খাওয়াচ্ছেন কিংবা মাঠেই ফেলে দিচ্ছেন।
গতকাল ও আজ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারেও কপির চাহিদা নেই। বিক্রেতারা প্রতিটি কপি মাত্র চার থেকে পাঁচ টাকায় বিক্রি করলেও ক্রেতা মিলছে না। কৃষকেরা বলছেন, সরবরাহ বেশি থাকায় ও অন্যান্য সবজির দাম কমে যাওয়ায় কপির বাজারে বিপর্যয় নেমেছে। গত বছর মৌসুমজুড়ে যেখানে ৩০ টাকা কেজি দরে কপি বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই দাম নেই।
তারাগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের কৃষক মোকছেদুল ইসলাম ৩০ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি থেকে সে তুলনায় কিছুই ফেরত পাচ্ছেন না। তিনি জানান, সকালে ৩০০টি কপি তুলতে খরচ হয়েছে ৪৫০ টাকা, পরিবহন ভাড়া লেগেছে আরও ৪০০ টাকা। অথচ বাজারে গিয়ে দাম উঠেছে মাত্র ৭০০ টাকা। দুপুরের পর কপির চাহিদা এতটাই কমে যায় যে, বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফেরত নিতে হয়েছে।
মেনানগর গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া ৫০ শতকে ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘গত বছর ফুলকপির শুধু ডগাও বিক্রি হয়েছিল, আর এবার তো পুরো কপিও কেউ নিচ্ছে না। কপি কাটার খরচও উঠছে না, তাই জমিতেই নষ্ট হচ্ছে।’’
এমনই হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন বদরগঞ্জের মধুপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মনমোহন সিংহ, উত্তরবাওচন্ডি শাহপাড়া গ্রামের অনিল চন্দ্র রায়, নিমাই চন্দ্র ও ধীরেন্দ্র নাথ রায়। অনিল চন্দ্র জানান, ৪০ শতকে ফুলকপি চাষ করতে তাঁর ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত বিক্রি করেছেন মাত্র সাত হাজার টাকার কপি। বাকিগুলো গাছেই নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম এতটাই কম যে, সহজেই কিনতে পারছেন। বদরগঞ্জ বাজারে সবজি কিনতে আসা রিকশাচালক সমছের আলী বলেন, ‘‘এখন সবজির দাম পানির মতো। ফুলকপি-বাঁধাকপিতে বাজার ভরে গেছে, তবুও কেনার লোক কম।’’
সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, এক মাস আগে ফুলকপি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন দেড় কেজির কপি মাত্র তিন টাকায় কিনে পাঁচ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবুও চাহিদা নেই।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। বদরগঞ্জে এবার ৬০০ হেক্টর জমিতে কপি চাষ হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ১৫০ হেক্টর বেশি। তারাগঞ্জেও চাষ বেড়েছে। ফলে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম পড়ে গেছে।
তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রাণী রায় বলেন, ‘‘বাম্পার ফলন কৃষকদের জন্য সুখবর হলেও বাজারমূল্যের অভাবে তাঁরা হতাশ। এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কপি চাষে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’’
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।