২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

পলিব্যাগে আগাম তরমুজ চাষ: কৃষকের নতুন আশা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
পলিব্যাগে আগাম তরমুজ চাষ: কৃষকের নতুন আশা

আমন ধান কাটার পরই শুরু হয় তরমুজ চাষের প্রস্তুতি। জমির কোণে, বাড়ির উঠানে ছোট ছোট পলিব্যাগে মাটি ভরে তাতে তরমুজের বীজ বপন করা হয়। ধান তোলার পর জমি চাষ দিয়ে রোদে শুকানো হয়। কয়েক ধাপে চাষের পর জমিতে তরমুজের মাদা (গোলাকার মাটির বিছানা) তৈরি করা হয়। পলিব্যাগে লাগানো চারার বয়স ২০-৩০ দিন হলে সেগুলো মাদায় রোপণ করা হয়। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই তরমুজ ঘরে তোলা যায়।

অনেক কৃষক জমি ফেলে রাখেন আগাম তরমুজ চাষের জন্য। তাদের মতে, একই জমিতে টানা তরমুজ চাষ করলে ফলন ভালো হয় না। এ জন্য দুই-তিন মৌসুম বিরতি দিতে হয়। আমন মৌসুমে জমি পতিত রেখে তারপর তরমুজ চাষ করা হয়।

গত বছর সাড়ে চার কানি (প্রায় সাড়ে সাত একর) জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন দিলারা পারভীন। ফলন এত ভালো হয়েছিল যে পাইকার ১২ লাখ টাকা দাম দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পাঁচ-ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে খেতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। বেশির ভাগ তরমুজ নষ্ট হয়ে যায়। মাত্র ৭০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছিলেন তিনি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের কৃষকরা ২০১০ সাল থেকে তরমুজ চাষ করছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও লবণাক্ততার কারণে তারা সমস্যায় পড়েছেন। লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শে এখন পলিব্যাগ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন তারা।

খুলনার বটিয়াঘাটার মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় এলাকায় জানুয়ারি থেকে মাটির লবণাক্ততা বাড়তে থাকে। সেচ দেওয়া না হলে লবণাক্ততা ১৫-১৬ ডিএস পর্যন্ত পৌঁছায়, যা ফসল চাষের অনুপযোগী। পলিব্যাগ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে এই সমস্যা কিছুটা কাটানো যায়।

২০২২ সালে পলিব্যাগ পদ্ধতিকে তরমুজ চাষের নতুন পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে সূর্যের তাপ ও অতিরিক্ত শীত থেকে চারা রক্ষা করা যায়। এছাড়া পোকার আক্রমণও কম হয়।

পটুয়াখালীর কৃষক ফোরকান মাঝি পাঁচ একর জমিতে পলিব্যাগ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করছেন। তাঁর মতে, একরে খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রতি একরে পাঁচ-ছয় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করা যায়।

এবার ডিসেম্বরেই তরমুজ চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। এর মূল উদ্দেশ্য রমজানের বাজার ধরা। স্বাভাবিকভাবে তরমুজ বাজারে আসে মার্চের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত। কিন্তু ডিসেম্বরে চারা বুনলে রমজানের শুরু থেকেই বাজারে তরমুজ সরবরাহ করা সম্ভব।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।