ঝালকাঠিতে আদি কৃষি পরিণত হচ্ছে আধুনিক কৃষিতে
ঝালকাঠি জেলায় ৪৬,৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ৯৫% ইতিমধ্যে কৃষকদের গোলায় তোলা হয়েছে। ধান চাষে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে, যা কৃষকদের সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয় করছে। ট্রাক্টর, কাটিং মেশিন, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার এবং রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো যন্ত্রের ব্যবহার কৃষিকাজকে আরও সহজ ও দ্রুতগতির করে তুলেছে। এছাড়াও, কীটনাশক স্প্রে করা থেকে শুরু করে ফসল কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই—সবই এখন যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে।
কৃষক এছাক আলী (৪৮) বলেন, আগে জমি প্রস্তুত করতে এবং ধান রোপণে অনেক সময় লাগত। শ্রমিক সংকটও ছিল বড় সমস্যা। কিন্তু এখন যন্ত্রের ব্যবহারে সময় ও শ্রম দুটোই কম লাগে। তিনি আরও বলেন, "এখন আর শ্রমিকের জন্য দিন গুনতে হয় না। যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত জমি চাষ করা যায়।"
কৃষক ছালাম হাওলাদার জানান, আগে গরু চড়ানোর জন্য জমি পতিত রাখা হতো, ফলে বছরে একবারই ফসল হতো। কিন্তু এখন কৃষি বহুমুখীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের ফলে ফসলের বৈচিত্র্য এসেছে এবং উৎপাদন বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, "যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি যদি প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে কৃষি আরও এগিয়ে যাবে। কীটনাশক স্প্রে করার জন্য ড্রোন ব্যবহার করলে জনস্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।"
রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের ধান মাড়াই মেশিনের পরিচালক হানিফ হাওলাদার (৫০) বলেন, "তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে এখন মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে। আগে এ কাজে গরু বা মহিষের পাল ব্যবহার করলে এক রাত লেগে যেত। এখন মেশিনের মাধ্যমে তা দ্রুত করা যায়।"
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, "কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটছে। কৃষকরা এখন কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারছেন। সরকার যান্ত্রিকীকরণের জন্য সমতল এলাকায় ৫০% এবং হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় ৭০% ভর্তুকি দিচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "কৃষকদের উৎপাদন সফলতা এবং সঠিক বাজার মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ পরামর্শ ও বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে।"
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।