২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

বরিশালের অর্থনীতিতে সম্ভাবনা জাগাচ্ছে আমেরিকান সবজি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বরিশালের অর্থনীতিতে সম্ভাবনা জাগাচ্ছে আমেরিকান সবজি

কখনো ধান, কখনো তরমুজ, কখনোবা শাকসবজি—বরিশাল অঞ্চলকে একসময় ‘শস্যভাণ্ডার’ বলা হতো। এখানকার মাটি উর্বর, কৃষকরা পরিশ্রমী। একসময় বানারীপাড়ার মলঙ্গা গ্রামের বালাম চাল শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় বরিশালের কৃষিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ধানের জায়গা দখল করছে নতুন ফসল, যার মধ্যে ক্যাপসিকাম অন্যতম।

দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আমেরিকার আদি ফসল ক্যাপসিকাম, যা স্থানীয়ভাবে মিষ্টি মরিচ নামে পরিচিত। চাষিরা এ ফসল থেকে আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে ক্যাপসিকাম চাষ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে মোট ৭৬ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ভোলায় ৭৪ হেক্টর এবং পটুয়াখালীতে ২ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৭.৮০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। তবে বাস্তবে বরিশাল, পিরোজপুর ও বরগুনার মতো জেলাগুলোর অনেক কৃষক ক্যাপসিকাম চাষ করছেন, যা এখনও সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

বরিশাল সদর উপজেলার লড়াইপুর চর ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজ ও শীতকালীন সবজির পাশাপাশি কয়েক একর জমিতে চাষ হচ্ছে ক্যাপসিকাম। প্রতিটি গাছ থেকে দুইবার ফলন সংগ্রহ করা হয়েছে এবং গাছে আরও ক্যাপসিকাম পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায়।

ভোলার কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, “আমি প্রায় ১২ বছর ধরে ক্যাপসিকাম চাষ করছি। চরাঞ্চলে রোদ বেশি থাকে এবং পানি সহজলভ্য হওয়ায় ভালো ফলন হয়। বরিশালের লড়াইপুর চরেও তিন বিঘা জমিতে চাষ করেছি এবং ইতোমধ্যে দুইবার ফলন তুলেছি।”

তবে চাষিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ উৎপাদন খরচ। চাষি মুনছের মিয়া বলেন, “এক কেজি ক্যাপসিকামের বীজ কিনতেই ২.৮ থেকে ৩ লাখ টাকা লাগে। প্রতি বিঘায় ৬-৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় চাষিদের লোকসান গুনতে হয়।”

বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এবং পটুয়াখালীর ধানখালী ইউনিয়নেও ক্যাপসিকামের চাষ বাড়ছে। পটুয়াখালীর কৃষক আবু সর্দার জানান, “তরমুজ-বাঙ্গির বাজার অনিশ্চিত। কিন্তু ক্যাপসিকামের ভালো চাহিদা আছে, তাই এটি দ্রুত বিক্রি করা যায়।”

চাষিদের অভিযোগ, কৃষি অফিস থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না। কৃষক আল আমিন বলেন, “সরকার যদি আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ দিত বা বীজ সহায়তা করত, তাহলে ক্যাপসিকাম চাষে আরও মানুষ উৎসাহিত হতো।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ জিএমএম কবীর খান বলেন, “ক্যাপসিকাম চাষ আশাব্যাঞ্জক। বাণিজ্যিকভাবে চাষ বাড়লে কৃষিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চাষিদের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।”

সরকারি নীতিগত সহায়তা ও সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ক্যাপসিকাম চাষ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।