তালায় সবজি চাষের সাথে সুমনের বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় সবজি চাষের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে সফল হয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুমন দাশ।
মির্জাপুর বারাত গ্রামের বাসিন্দা সুমন দাশ (৩৬) পেশায় একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে কর্মরত। সরকারি চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজে আগ্রহী সুমন ২০২১ সালে মাত্র এক বিঘা জমিতে শসা ও করলা চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরই এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেন, যা তাকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লাভ এনে দেয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি চাষের পরিধি বাড়াতে থাকেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক জাম্বু, সুপার সোনাকা, মানিকচমন ও ভিএসডি জাতের ৪৫০টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করে তিনি দুই বিঘা জমিতে আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন। পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে রকমেলন ও তরমুজ চাষ করে তিন মাসের মধ্যে ৮০ হাজার টাকা লাভ করেন। পরে নভেম্বর মাসে তিনি সেখানে ৮,৫০০ সিনজেন্টা ইন্দিরা গোল্ড জাতের ক্যাপসিকামের চারা রোপণ করেন, যা ইতোমধ্যে বাজারজাত করা শুরু হয়েছে।
সুমন দাশ জানান, বর্তমানে প্রতি দুই-একদিন পর ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি ক্যাপসিকাম বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে প্রতি মণ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন, পাঁচ মাসের এই চাষ থেকে ১৫-১৬ টন ক্যাপসিকাম উৎপাদন হবে এবং গড়ে প্রতি টন ৭০ হাজার টাকা দরে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা আয় হবে। সব খরচ বাদে তার লাভ হবে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রথমবারের মতো তালা উপজেলার বারাত গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ শুরু হয়েছে, যা জেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। কৃষি বিভাগ থেকে সুমন দাশকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।