ঠাকুরগাঁওয়ের ভুট্টা চাষে আশার আলো দেখছেন কৃষক
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম পিছিয়ে থাকা জেলা ঠাকুরগাঁও। এখানে ভারী শিল্প-কারখানার অভাব এবং পরিত্যক্ত ব্রিটিশ আমলের বিমানবন্দর উন্নয়নের অভাবে রয়ে গেছে। ফলে কৃষিই এখানকার প্রধান জীবিকা। তবে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন এখনো অধরা।
ধান ও গম চাষ এখানকার কৃষকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ফসল হলেও ন্যায্যমূল্যের অভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ধান ও গমের দাম কমে যায়, আর কৃষকের কাছে ফসল না থাকলে দাম বাড়ে। এতে করে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ভুট্টা চাষের পরিমাণ বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০,২৫০ হেক্টর, তবে চাষ হয়েছে ৪৩,২৮৫ হেক্টর জমিতে। ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন এতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
স্থানীয় কৃষক বদিরুল ইসলাম জানান, "বোরো ধান বা গম চাষে লাভ কম। তাই এবার পাঁচ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল পাইনিয়ার ৩৩৫৫ জাতের ভুট্টা লাগিয়েছি। এতে খরচ কম, লাভ বেশি।"
হরিপুর এলাকার কৃষক আজহারুল জানান, "আমাদের এলাকায় রোপা আমন ধান ছাড়া অন্য মৌসুমে বেশিরভাগ কৃষকই ভুট্টা চাষ করেন। কারণ এতে খরচ কম, লাভ বেশি।"
ভেলাজান গ্রামের দরবুল ইসলাম বলেন, "দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। সার, বীজ, ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা লেগেছে। আশা করি ভালো দাম পাব।"
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কৃষকরা শঙ্কিত হলেও ভুট্টা চাষের প্রতি তাদের ঝোঁক বাড়ছে। গমের তুলনায় ভুট্টার উৎপাদন বেশি এবং দামও তুলনামূলক ভালো। হেক্টরপ্রতি গম যেখানে ৮০-১০০ মণ উৎপাদন হয়, সেখানে ভুট্টার ফলন ৩৫০-৫০০ মণ পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়া জেলার উঁচু জমিতে মরিচ চাষও লাভজনক হয়ে উঠছে। বিঘাপ্রতি ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হলেও, ভালো ফলন হলে ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, "ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকদের ভুট্টা চাষে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।"
সরকার যদি কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারবে এবং ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।