২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
ক্যাম্পাস

একাডেমিক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর বাকৃবি শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৬ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
একাডেমিক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর বাকৃবি শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থীকে একই ঘটনায় একাধিকবার বহিষ্কার ও শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে ওই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার করা হলেও সেটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হল থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। একই ঘটনায় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবার বহিষ্কার করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হল ফিস্ট অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণামূলক গান বাজানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গত ২ ফেব্রুয়ারি কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের এক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বিধি' অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দুই সেমিস্টারের (১২ মাস) জন্য বহিষ্কার করা হয়। এর তিন দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি কোনো আপিল ছাড়াই সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে একাডেমিক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পরের দিন (৬ ফেব্রুয়ারি) তাকে আবার হল থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এদিকে হল প্রশাসনের এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ করেন শাহজালাল হলের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওইদিন শাহজালাল হলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান চলছিল। গানগুলো বাজানোর সময় তিনি পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। গান বাজানোর ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রদল নেতার সাথে তার সুসস্পর্ক রয়েছে এবং ছাত্রদলের আরেক নেতা শাহজালাল হলে প্রভাব বিস্তার করার প্রচেষ্টায় আছেন। একারণেই ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সরানোর জন্য ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদিউজ্জামান খান এমন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হলের অনুষ্ঠানে গান বাজাচ্ছিলেন ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তাহলে কেন একমাত্র তাকেই শাস্তি দেওয়া হলো। আবার বারবার এভাবে শাস্তি দেওয়া ও শাস্তি পাল্টানোর ঘটনাকে প্রশাসনের অন্যায্য ও প্রতিহিংসামূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সারওয়ার জাহান বলেন, 'এখানে প্রশাসনিক কিছু ত্রুটি ছিলো। হলভিত্তিক সমস্যায় প্রাধ্যক্ষই সকল কিছু নির্ধারণ করেন। একারণেই প্রথমে শিক্ষার্থীকে একাডেমিক বহিষ্কার করা হলেও পরবর্তীতে সেটি বাতিল করা হয়েছে। হল প্রভোস্ট পরবর্তীতে তাঁর বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন।'

এ বিষয়ে শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদিউজ্জামান খান বলেন, 'ওই শিক্ষার্থী যখন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার ওই গানটি বাজাচ্ছিলেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাকে প্রথমে তার শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শাস্তি কিছুটা কমিয়ে তাকে হল থেকে একবছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত ১ম বর্ষের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।'

এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমার হলের একজন শিক্ষার্থীর সাথে আমার ব্যক্তিগত আক্রোশ কেন থাকবে? এরকম হলে তার শাস্তি কমানোর বিষয়ে আমরা ভাবতাম ই না।'

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।