২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

নওগাঁয় আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
নওগাঁয় আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নওগাঁ জেলায় এবার আমের মুকুলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাতাসে বইছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, যা চাষিদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দিনের কুয়াশা ছাড়া আবহাওয়া বেশ অনুকূল থাকায় আমচাষিরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষিবিদরাও আশাবাদী যে, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আমের উৎপাদন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ২০০ হেক্টর বেশি জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ফলে, উৎপাদন ২৫ হাজার টন পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, আমের মুকুল ঠিকমতো গজাতে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়া সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে, জানুয়ারি মাসে কয়েক দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকায় এবার আমের মুকুল ভালো এসেছে। তবে সাম্প্রতিক কুয়াশা মুকুলের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, কারণ এতে ছত্রাকের সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এজন্য কৃষকদের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চাষিরা বলছেন, এক বছর ভালো ফলন হলে পরের বছর ফলন কম হওয়ার প্রবণতা থাকে। গত বছর নওগাঁয় আমের উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়েছিল, তাই এবার চাষিরা আশাবাদী যে ফলন ভালো হবে। বেশিরভাগ গাছেই প্রচুর মুকুল এসেছে, যা বাম্পার ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই বছর নওগাঁয় ৩০,৫০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি। গত বছর জেলায় ৪ লাখ ২৫ হাজার টন আম উৎপাদিত হয়েছিল, এবার তা বেড়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয়। এবার এই দুই উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রায় প্রতিটি গাছেই মুকুল এসেছে, কিছু বাগানে শতভাগ গাছে মুকুল দেখা গেছে।

সাপাহারের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা জানান, তার ২০০ বিঘার বাগানে এবার ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। ফাল্গুন মাস মুকুলের জন্য উপযুক্ত সময়, তাই আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে বাকি গাছেও মুকুল আসবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে ছত্রাকের আক্রমণ ঠেকাতে তিনি নিয়মিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন।

পোরশা উপজেলার আমচাষি রায়হান আলম জানান, গত বছর দেরিতে শীতের কারণে মুকুল আসতে দেরি হয়েছিল, কিন্তু এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই মুকুল দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।