২৬ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে বোরো উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে বোরো উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চল, যার অন্তর্ভুক্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর, সেখানে চলতি বোরো মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমন মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন হয়নি, যা পুষিয়ে নিতে কৃষি অধিদপ্তর বোরো আবাদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেচনির্ভর এই আবাদে এখনো ২৯ শতাংশ জমি সেচ সুবিধার বাইরে রয়েছে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, প্রতি বছর আগেভাগেই সেচ ও জ্বালানি সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়, তবে এবছর এখনো কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসেনি। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এলেও ৮৬ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমি এখনো সেচ সুবিধা পায়নি। ফলে কৃষকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।

বোরো চাষে কৃষকদের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। যদিও চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২ হাজার ১৪৭ হেক্টর বেড়েছে, তবুও কৃষকদের মধ্যে চাষের আগ্রহ কম। বিশেষ করে ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি সেচ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, যা কৃষকদের চাপে ফেলেছে।

চট্টগ্রাম জেলায় ৬৯,৭০৫ হেক্টর, কক্সবাজারে ৫৫,৬৮৫ হেক্টর, নোয়াখালীতে ১ লাখ ৬৫০ হেক্টর, ফেনীতে ৩১,৩০০ হেক্টর এবং লক্ষ্মীপুরে ৩৫,৬৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।

গত বছর সেচকার্যে ৬৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ও ৩২ হাজার টন ডিজেল ব্যবহারের পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। তবে এবছর ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যয় আরও বাড়বে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এখন পর্যন্ত ১৪৫টি গভীর নলকূপ, ১৩,৪৭৭টি অগভীর নলকূপ, ২০,২৮০টি লো লিফট পাম্প (এলএলপি) এবং অন্যান্য মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে। কিন্তু এখনো প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার বাইরে রয়েছে।

বোরো মৌসুমে প্রতিটি জমিতে ২০-৩০ বার সেচ দিতে হয়, যা ব্যয়বহুল। কৃষকরা বলছেন, যদি উৎপাদন খরচের সমান দামে ধান বিক্রি হয়, তবে তারা কেন লোকসান গুনে চাষ করবেন? বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট থাকায় অনেক জায়গায় সেচ দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাং নাছির উদ্দীন বলেছেন, “সেচ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এখনো আসেনি, তবে উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা বোরো চাষে কম উৎসাহী হলেও আমরা উৎপাদন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছি।”

কৃষকরা যদি সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সেচ ও জ্বালানি সুবিধা না পান, তবে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাবে না, যা খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।