ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার মণ আলু
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো হিমাগার না থাকায় চাষিরা বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন। মাঠে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই তা তুলতে সাহস পাচ্ছেন না। যারা তুলছেন, তারা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ব্যাপক লোকসানের শিকার হচ্ছেন আলুচাষিরা।
খগাখড়িবাড়ী গ্রামের চাষি জসিম উদ্দিন ও আব্দুল মোত্তালেব জানান, সংরক্ষণের অভাবে হাজার হাজার মণ আলু নষ্ট হচ্ছে। তারা মনে করেন, হিমাগার থাকলে চাষিরা আলু মজুদ করে উপযুক্ত সময়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারতেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমতো এবং ভোক্তারাও কম দামে আলু কিনতে পারতেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুরো জেলায় ১১টি হিমাগার থাকলেও ডিমলা উপজেলায় একটিও নেই। অথচ এ উপজেলায় ১,৮৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে এবং সম্ভাব্য উৎপাদন ৩৫-৩৭ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন ভালো হলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক কম দামে আলু বিক্রি করেও লোকসানে রয়েছেন। কেউ কেউ ক্ষেতেই আলু ফেলে রেখেছেন, কারণ তুললে সংরক্ষণ করতে পারবেন না, আর কম দামে বিক্রি করলে খরচই উঠবে না। ফলে ক্ষেতেই পচতে শুরু করেছে আলু।
খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের কৃষক বাবুল ইসলাম জানান, গত বছর ১০ বিঘা জমিতে ৬২০ মণ আলু উৎপাদন করলেও হিমাগার না থাকায় কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে পাশের উপজেলায় কিছু আলু সংরক্ষণ করলেও পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হওয়ায় লাভের মুখ দেখা সম্ভব হয়নি।
নাউতারা ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া, ছবেত আলী ও আমিনুর রহমান জানান, রমজান ও কোরবানির সময় আলুর দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু হিমাগারে রাখার সুযোগ না থাকায় তারা তখন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন না। ফলে লাভের পরিবর্তে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, জেলায় কিছু হিমাগার থাকলেও সেখানে সহজে রশিদ পাওয়া যায় না। মধ্যস্বত্বভোগীরা আগে থেকেই এসব হিমাগার দখলে রাখেন। ফলে কৃষকেরা নিজেরাই আলু সংরক্ষণ করতে পারেন না, কিন্তু পরবর্তীতে বেশি দামে সেই আলুই কিনতে বাধ্য হন।
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানান, আলুর উৎপাদন প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হচ্ছে। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে হিমাগার সংকটের কারণে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। সংকট নিরসনে ডিমলায় দ্রুত হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
কৃষকেরা দাবি করছেন, সরকারি সহায়তায় অন্তত একটি হিমাগার তৈরি করা হলে তারা বড় ধরনের লোকসান থেকে বাঁচতে পারবেন। এছাড়া, ন্যায্যমূল্যে সংরক্ষণের সুযোগ পেলে তারা ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিমাণে আলু চাষে উৎসাহিত হবেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।