২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

পীরগাছায় আলুর বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
পীরগাছায় আলুর বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা

রংপুরের পীরগাছায় এ বছর আলুর ব্যাপক ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। বিশেষ করে আগাম জাতের আলু চাষ করে যারা বেশি লাভের আশা করেছিলেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এবং বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কৃষকরা পানির দামে আলু বিক্রি করছেন, যা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ১৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত চাষের পরিমাণ ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করলেও এবার বিপরীত পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছর সংরক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ফলে কৃষকরা কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে প্রতি কেজি ইস্ট্রিক জাতের আলু ১০-১২ টাকা, সেভেন জাতের ৮-১০ টাকা এবং লাল পাকরি জাতের ১২-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছর দাম ছিল প্রায় দ্বিগুণ। ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ব্যাপক আগাম আলু উৎপাদন হলেও কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ থাকায় সংরক্ষণের সুযোগ নেই।

পীরগাছার কৃষক জয়নাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "১১০ টাকা কেজি দরে বীজ কিনে আলু চাষ করেছিলাম, অথচ এখন বাজারে দাম নেই। কোল্ড স্টোরেজ বন্ধ, আমাদের তো পথে বসতে হবে!"

শিবদেব গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক মিয়া বলেন, "বীজ, সার, পানি, কীটনাশক, শ্রমিক—সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আলুর দাম নেই। এক লিটার পানির দাম ২০ টাকা, অথচ এক কেজি আলু বিক্রি করছি ১০-১২ টাকায়! এই লোকসান সহ্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"

পীরগাছা বাজারের আলু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বছরের উচ্চ মূল্যের কারণে এবার চাষ বেড়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত সরবরাহে দাম পড়ে গেছে। তবে কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে বাজারে দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, "এবার আলুর উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ হয়েছে। অনেক কৃষক বোরো চাষের জন্য আগাম আলু তুলছেন। তবে সংরক্ষণের সুযোগ কম থাকায় বাজারে দাম পড়ে গেছে।"

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে দ্রুত কোল্ড স্টোরেজ চালু করা, সংরক্ষণ ব্যয় কমানো, রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায়, কৃষকরা ভবিষ্যতে আলু চাষে নিরুৎসাহিত হতে পারেন, যা দেশের কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।