২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

টেকনাফে শর্ষে চাষে কৃষকের সফলতা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
টেকনাফে শর্ষে চাষে কৃষকের সফলতা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কৃষিজমিতে একসময় শুধুই ধানের চাষ হতো। আমন আর বোরো মৌসুমের মাঝের সময়টায় জমিগুলো পড়ে থাকত অব্যবহৃত। কিন্তু এখন কৃষকেরা সেই জমিকে কাজে লাগিয়ে রবিশস্য চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে শর্ষে চাষ লাভজনক হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে টেকনাফে প্রথমবারের মতো ৭০ হেক্টর জমিতে শর্ষে চাষ শুরু হয়। আশানুরূপ ফলন ও ভালো দামের কারণে এবার চাষ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ হেক্টরে, যা প্রায় দ্বিগুণ। কৃষকেরা বলছেন, কম সময়ে কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় শর্ষে চাষের প্রতি তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কৃষক লাকিংউ চাকমা জানান, গত বছরের মতো এবারও তিন বিঘা জমিতে শর্ষে চাষ করেছেন তিনি। আগের মতো ধান কাটার পর জমি ফেলে রাখার পরিবর্তে শর্ষে চাষ করে বাড়তি আয় হচ্ছে, জমির উর্বরতাও বাড়ছে।

একই গ্রামের চাষি এতাইন চাকমা বলেন, ‘এবার এক একর জমিতে শর্ষে চাষ করেছি। এতে ৫-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে ফসল উঠে এসেছে।’ প্রতি হেক্টরে দুই থেকে আড়াই টন শর্ষে পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান। বাজারে প্রতি কেজি শর্ষে ৬০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন কেজি শর্ষে থেকে এক কেজি তেল পাওয়া যায়, যার বাজারদর প্রায় ২০০ টাকা। তেলের বাইপ্রোডাক্ট খৈলও গরুর খাবার হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩৫ টাকা কেজি দরে। ভবিষ্যতে তিনি মৌ চাষের পরিকল্পনাও করছেন।

কান্তি লাল চাকমা এবারই প্রথম শর্ষে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘অন্য কৃষকদের লাভের কথা শুনে আমিও চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে, দামও ঠিক আছে। তাই বেশ লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে।’

চাষি লালং চাকমা জানান, এবারের ফসলে পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন ছিল না, তাই ফলন ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি ৫-৬ মণ শর্ষে মিলছে, যার থেকে চাষাবাদের সব খরচ বাদ দিয়েও বিঘায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, শর্ষে চাষের পরিশ্রম কম, লাভ বেশি—তাই কৃষকেরা আগ্রহী হচ্ছেন। পুরো এলাকা এখন শর্ষের হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম কুতুবী জানান, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি শর্ষে চাষের আদর্শ সময়। এবার দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলায় শর্ষের চাষ হয়েছে, যা আগামী মৌসুমে আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের শর্ষে চাষে উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ সরকারি সহায়তার কারণে চাষিরা এখন শর্ষে চাষে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।