২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে ক্যাপসিকাম

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে ক্যাপসিকাম

জয়পুরহাটের সবজি দেশের বিভিন্ন বাজারে সমাদৃত। নতুন নতুন ফসল চাষে এখানকার কৃষকরা ক্রমেই দক্ষ হয়ে উঠছেন। এবার ক্যাপসিকাম চাষের মাধ্যমে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন আব্দুর রশিদ নামে এক কৃষক। একসময় ঢাকার ফুটপাতে ডাব বিক্রি করলেও এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তার উদ্যোগ দেখে অনেক কৃষকই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ধনতলা গ্রামের আব্দুর রশিদ প্রায় ২০ বছর ঢাকায় ফুটপাতে ডাব বিক্রি করতেন। তবে ইউটিউবে কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও দেখে উৎসাহ পান এবং আড়াই বছর আগে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। শুরু করেন কমলা বাগানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। বর্তমানে ১ একর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ক্যাপসিকাম চাষ করছেন।

তিনি জানান, জমিতে হলুদ ফাঁদ ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করেছেন। রাসায়নিক সার এড়িয়ে গোবর ও অল্প পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করেছেন। এতে ক্যাপসিকামের ফলন হয়েছে চমৎকার এবং তা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত।

আব্দুর রশিদ বলেন, “১ বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে আমার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার বিক্রি করেছি, আর বাকি সময়ে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকার বিক্রি আশা করছি।”

এ সাফল্য দেখে আশেপাশের কৃষকরাও ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ধনতলা গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমি মূলত করলার চাষ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু রশিদ ভাইয়ের সাফল্য দেখে সিদ্ধান্ত বদল করেছি। এবার আমিও ক্যাপসিকাম চাষ করব।”

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মজিবুর রহমান জানান, “উচ্চমূল্যের ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা আমাদের কাজ। জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। তবে ছত্রাক, থ্রিপস ও মাইটের আক্রমণ রোধে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে, তাহলে ফলন আরও ভালো হবে।”

আব্দুর রশিদের এই সফল উদ্যোগ শুধু তার জন্যই নয়, পুরো এলাকার কৃষকদের জন্যও এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

 

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।