২৭ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

মানিকগঞ্জে ৫০ কোটি টাকার গাজর বিক্রির আশা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জে ৫০ কোটি টাকার গাজর বিক্রির আশা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে গাজর চাষ দিন দিন বাড়ছে। রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার গাজরের চাহিদা বেশি। মিষ্টি স্বাদের জন্য সিংগাইরের গাজরের খ্যাতি সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বেলে-দোঁআশ মাটির উর্বরতায় গাজরের ফলনও ভালো হয়, ফলে কৃষকেরা স্বল্প খরচে লাভজনকভাবে চাষ করতে পারছেন।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিংগাইরে ৯৬০ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ৯৫০ হেক্টর জমিই সিংগাইর উপজেলায়। এখানকার উৎপাদিত গাজর দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। চলতি মৌসুমে এখানকার কৃষকেরা প্রায় ৫০ কোটি টাকার গাজর বিক্রি করতে পারবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সিংগাইরের প্রতিটি ইউনিয়নে গাজর চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় জয়মন্টপ ইউনিয়নের দুর্গাপুর, চর দুর্গাপুর, ভাকুম, চর ভাকুম, পূর্ব ভাকুম ও পশ্চিম ভাকুম গ্রামে। এখানকার বিস্তীর্ণ এলাকায় গাজরের চাষ ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে এসব এলাকা ‘গাজরের গ্রাম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

সিংগাইরের কৃষকেরা গাজর চাষে ভালো লাভ করছেন। চর আজিমপুর গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন জানান, এ বছর সাত বিঘা জমিতে গাজর চাষ করতে তার সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু বিক্রির পর আয় হয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা। বিঘাপ্রতি তার লাভ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

ভাকুম এলাকার কৃষক জয়নাল মিয়া প্রায় ২০ বছর ধরে গাজর চাষ করছেন। এবার তিনি আট বিঘা জমিতে চাষ করেছেন, যেখানে খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। কিন্তু গাজর পরিপক্ক হওয়ার আগেই ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

গাজর ব্যবসায়ী সিদ্দিক জানান, একসময় রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে গাজর কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন, কিন্তু তাতে লাভ কম হতো। এখন সরাসরি সিংগাইরের কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষেত থেকেই গাজর কিনছেন, এতে লাভ বেশি হচ্ছে।

গাজর পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। শ্রমিক মহিবুল্লাহ জানান, আগে হাতে আর পা দিয়ে গাজর পরিষ্কার করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ছিল। এখন মেশিন দিয়ে দ্রুত গাজর পরিষ্কার করা যাচ্ছে। যেখানে আগে দিনে ১২০ বস্তা পরিষ্কার করা হতো, এখন মেশিনের মাধ্যমে ৩০০-৪০০ বস্তা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, সিংগাইরের গাজর চাষ দেশের অন্যতম লাভজনক কৃষি খাত হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা স্বল্প খরচে বেশি লাভ করতে পারছেন বলে চাষ বাড়ছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে এই এলাকার কৃষকেরা ৫০ কোটি টাকার গাজর বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গাজর চাষ শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নই ঘটাচ্ছে না, এটি দেশের খাদ্যশৃঙ্খলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সিংগাইরের গাজরচাষিদের পরিশ্রম আর উদ্ভাবনী চাষাবাদের ফলে এখানকার গাজর দেশজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।