মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠা, যা বললেন বিশেষজ্ঞরা
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠা (লিটার) ব্যবহার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু মৎস্যচাষি লাভের আশায় পুকুরে সরাসরি মুরগির বিষ্ঠা প্রয়োগ করছেন, যা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও মাছের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও মৎস্য বিজ্ঞানীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আছিম-সোয়াইতপুর সড়ক, কুমুরদিঘি, শিবরামপুর-বাবুগঞ্জ সড়ক ও পানতাডুপি বিল এলাকায় একাধিক ফিশারির ওপর তৈরি মুরগির খামার থেকে সরাসরি বিষ্ঠা পুকুরে পাঠানো হচ্ছে। অনেক চাষি বস্তায় ভরে বিষ্ঠা পুকুরে ফেলছেন খাবারের বিকল্প হিসেবে। এতে পানির রঙ বদলে যাচ্ছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পথচারীদের দুর্ভোগেরও শেষ নেই।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সিরাজুম মনীর বলেন,
“মুরগির বিষ্ঠায় থাকা অ্যান্টিবায়োটিক ও ভারী ধাতু (হেভি মেটাল) মাছের মাধ্যমে মানব দেহে প্রবেশ করে। এতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, হার্ট, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হয়।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. হারুন আল মাকসুদ বলেন,
“এভাবে বড় হওয়া মাছ খেলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে।”
উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় রয়েছে ১৮ হাজারের বেশি পুকুর, যার মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ফিশারি। বহুবার সতর্কতা ও সভা-সেমিনার করলেও অনেকে নিয়ম না মেনে বিষ্ঠা ব্যবহার করছেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, “মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ। আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে, তবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি।”
মৎস্য চাষি ওমর ফারুক বলেন, “আমার জানামতে এটি ক্ষতিকর নয়। তবে প্রশাসন নিষেধ করলে বন্ধ করবো।”
এদিকে মুরগির বিষ্ঠা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন খামারিরা। প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২০০–২৫০ টাকা দরে, যা কিনে সহজেই পুকুরে প্রয়োগ করছে ফিশারি মালিকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন ও নজরুল ইসলাম বলেন, “এই মাছ আমরা খাই না। আমরা জানি বিষ্ঠা দেওয়া মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।”
মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, মুরগির বিষ্ঠা পচিয়ে কম্পোস্ট সার হিসেবে ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সরাসরি প্রয়োগ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং কৃষকদের সচেতনতা জরুরি।
একটি নিষিদ্ধ পদ্ধতির কারণে শুধু মাছ নয়—ভবিষ্যত প্রজন্মও অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়ছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।