সাফল্য এলেও ‘আধা নিবিড়’ চিংড়ি চাষে আগ্রহ কম
সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটায় আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে চমকপ্রদ সাফল্য পেয়েছেন চাষি মো. আনারুল ইসলাম। দীর্ঘ আট বছর ধরে পরিবেশবান্ধব এই চাষপদ্ধতিতে কাজ করে তিনি ২০২৪ সালে ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লাভ করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও ধৈর্য ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি এ সফলতা অর্জন করেন।
আনারুল জানান, তিনি সরকারের অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহার করেন এবং উৎপাদনে কোনও গ্রোথ হরমোন বা এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন না। উচ্চমানের খাদ্য ব্যবহার করে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে তার খামারে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে তার খামারে ১২টি পুকুর রয়েছে, যার আয়তন ৯ হেক্টর এবং জলায়তন ৪.৮০ হেক্টর। এখানেই আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করা হয় বাগদা চিংড়ি।
২০২৪ সালে তিনি ৬১.২৫ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন করেছেন, যা হেক্টরপ্রতি ১২.৭৬ মেট্রিক টন। এতে তার মোট ব্যয় হয় ৭০.৮৩ লাখ টাকা এবং আয় হয় ১০৯.৩৮ লাখ টাকা। হেক্টরপ্রতি তার নিট লাভ দাঁড়ায় ৩৮.৫৪ লাখ টাকা।
দেবহাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, উপজেলায় বর্তমানে ৩টি আধা নিবিড় বাগদা চিংড়ি খামার রয়েছে। আনারুলের সফলতা দেখে অনেক চাষি এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন। কারণ, সনাতন পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ৩৫০ কেজি হলেও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে ১২ থেকে ১৫ হাজার কেজি পর্যন্ত চিংড়ি উৎপাদন সম্ভব।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম বলেন, আধা নিবিড় চাষে খরচ বেশি হলেও উৎপাদন তিন থেকে চারগুণ বেশি হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির তাপমাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন চিংড়ি চাষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। অনেকেই গভীর ঘেরের জন্য প্রস্তাবিত ৫ ফুটের বদলে ৩ ফুট গভীরতা রাখায় ক্ষতির মুখে পড়েন।
তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরায় ৫৪ হাজার ঘেরে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন বাগদা এবং ১১ হাজার ঘেরে ১০ হাজার মেট্রিক টন গলদা চিংড়ি উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে ১১টি আধা নিবিড় ঘেরে উৎপাদন সর্বোচ্চ ৭ এবং সর্বনিম্ন ৩ মেট্রিক টন হেক্টরপ্রতি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এসব চিংড়ি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।