সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে ১৭ শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ২০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ১৭ নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি টং দোকানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ওই রাতে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাঁদের টং দোকানের পাশে আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের মুঠোফোন জব্দ করে জ্যেষ্ঠদের সালাম দেওয়া, ‘ম্যানার শেখানো’ এবং বিভিন্ন অশালীন ও অপমানজনক আচরণ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজনকে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং একজনকে ব্যাঙের মতো লাফ দিতে বাধ্য করা হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই র্যাগিংয়ে তাঁরা মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার সকালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. সামিউল আহসান তালুকদার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং, বুলিং ও ছাত্ররাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছি এবং প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে র্যাগিং একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারবার প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবক মহল থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হলেও, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।