২১ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
মৎস্য

কক্সবাজারে চিংড়ি পোনার হ্যাচারিতে বাড়ছে উৎপাদন

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২১ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে চিংড়ি পোনার হ্যাচারিতে বাড়ছে উৎপাদন

চিংড়ি ও কাঁকড়া পোনার উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। কক্সবাজারের বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবিত দেশীয় প্রজাতির মাইক্রোঅ্যালগি ব্যবহার করে এখন পোনা উৎপাদনে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সাফল্য পাচ্ছেন হ্যাচারি মালিকরা। এতে যেমন পোনার গুণগত মান উন্নত হয়েছে, তেমনি কমেছে বিদেশ নির্ভরতা ও উৎপাদন খরচ। সাশ্রয় হচ্ছে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও।

বিএফআরআই কক্সবাজারের সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান জানান, তাঁদের গবেষক দল বঙ্গোপসাগর থেকে জীবাণুমুক্ত, পুষ্টিকর ও উপযোগী মাইক্রোঅ্যালগি শনাক্ত করে তা হ্যাচারির উপযোগীভাবে মানিয়ে নিয়েছে। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাকিয়া হাসান, জাহিদুল ইসলাম ও তুরাবুর রহমান।

বর্তমানে কক্সবাজার–টেকনাফ উপকূলে ৬০টির মতো হ্যাচারি রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার কোটি পোনা উৎপাদিত হয়। আগে আমদানিকৃত মাইক্রোঅ্যালগির জীবাণুজনিত সমস্যার কারণে অনেক পোনা মারা যেত, উৎপাদন হার ছিল মাত্র ৩০%। বিএফআরআই উদ্ভাবিত দেশীয় অ্যালগি ব্যবহারের ফলে এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫০%।

পোনা উৎপাদনে ব্যবহৃত অ্যালগির কিছু প্রজাতি হলো: স্কেলেটোনিমা কস্টাটাম, চিটোসেরোস গ্রাসিলিস, থ্যালাসিওসিরা, ও ন্যানোক্লোরোপসিস। এসব অ্যালগি বিএফআরআই নিজস্ব লাইভ ফিড গবেষণাগারে সংরক্ষণ করে আসছে এবং ইতোমধ্যে ৪০৬ বারে ৪ টনের বেশি স্টক হ্যাচারিতে সরবরাহ করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, মাইক্রোঅ্যালগি হলো এককোষী জলজ উদ্ভিদ, যা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে এবং পানির নিচে বসবাসকারী লার্ভা পর্যায়ের প্রাণীদের জন্য আদর্শ খাদ্য। বিশ্বে প্রায় ১ লক্ষ প্রজাতির মাইক্রোঅ্যালগি থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতিই হ্যাচারির জন্য কার্যকর।

‘সেব’ সভাপতি লুৎফুর রহমান কাজল জানান, দেশীয় অ্যালগি ব্যবহারে শুধু উৎপাদন বাড়েনি, অনেক হ্যাচারি বন্ধ হওয়ার মুখ থেকে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, “আগে বিদেশি অ্যালগি জীবাণুর কারণে বহু লোকসান হতো। এখন পোনা বেঁচে থাকছে, গুণগত মান বেড়েছে, আর খরচ কমে এসেছে। এটাই ভবিষ্যতের পথ।”

এই উদ্ভাবন শুধু চিংড়ি বা কাঁকড়ার পোনা নয়, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ, কোরাল এবং ঝিনুকের হ্যাচারিতেও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।